দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে আটকে রাখার ঘটনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ ও ‘অসুখকর’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার (১৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমরা বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। ঘটনাটি সুখকর নয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটুক, তা আমরা প্রত্যাশা করি না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছে। পুরো ঘটনাটি জেনে যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা তা নেব।”
সোমবার থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের দুই দিনব্যাপী বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের। এ উদ্দেশ্যে তিনি রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
তবে বিমানবন্দরের অভিবাসন বিভাগ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখে। এ সময় তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পরে পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশের অনুমতি দিলেও উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান তা গ্রহণ করেননি। তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার প্রতিবাদে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরেন।
দিল্লি থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। তবে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের নানা উদ্যোগের খবর আসছিল। ফলে একজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বিদেশের বিমানবন্দরে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়া নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহেদ উর রহমান এখনও কূটনৈতিক পাসপোর্ট গ্রহণ করেননি। তিনি সাধারণ পাসপোর্টে সার্ক ভিসা নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন।
এদিকে সরকারি পর্যায়ের কোনো উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি বিদেশ সফরে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার রীতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কী ধরনের সমন্বয় হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন গত শুক্রবারই উপদেষ্টার সরকারি সফর সম্পর্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবেও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
তবুও কেন তাকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হলো, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের একটি নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ তালিকায় জাহেদ উর রহমানের নাম থাকায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটি প্রশাসনিক ত্রুটিজনিত ভুল বলে শনাক্ত করা হয় এবং তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে এরই মধ্যে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সোমবার ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পাওয়ানকুমার বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
সানা/আপ্র/১৫/৬/২০২৬