ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতেও সমীক্ষাগুলোতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। যদিও অতীতে বহু ক্ষেত্রে এসব জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফল মেলেনি, তবু রাজনৈতিক দলগুলো তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আগামী ৪ মে এসব রাজ্যের নির্বাচনের ফল প্রকাশ হবে।
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটে রেকর্ড ভাঙা ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। ভোটগ্রহণ শেষের আগেই অংশগ্রহণের হার প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছায়, যা প্রথম দফাকেও ছাড়িয়ে যায়। এ রাজ্যে প্রকাশিত ছয়টি সমীক্ষার মধ্যে চারটিতে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টির ক্ষমতায় যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যদিও কয়েকটি সংস্থা তৃণমূল কংগ্রেসকেই এগিয়ে রেখেছে। সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ জরিপে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
আসামে ১২৬ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনে প্রয়োজন ৭৪ আসন। একাধিক সমীক্ষায় সেখানে আবারও বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন পূর্বাভাসে এ জোটের আসন সংখ্যা ৮৫ থেকে ১০১-এর মধ্যে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের আসন ২৩ থেকে ৩৬-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
কেরালার ১৪০ আসনের বিধানসভায়ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। সমীক্ষাগুলোতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউডিএফকে সামান্য এগিয়ে রাখা হলেও ক্ষমতাসীন বাম জোট এলডিএফের সঙ্গে ব্যবধান খুব বেশি নয়। বেশিরভাগ পূর্বাভাসে ইউডিএফ ৭০ থেকে ৯০টি আসন এবং এলডিএফ ৪৯ থেকে ৬৫টির মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের নির্বাচনে ভিন্ন ভিন্ন সমীক্ষায় ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। কিছু পূর্বাভাসে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটকে এগিয়ে রাখা হলেও অন্য কয়েকটিতে এআইএডিএমকে-বিজেপি জোটের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। আবার একটি সমীক্ষায় নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা অভিনেতা বিজয়ের দলের অপ্রত্যাশিত উত্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির ৩০ আসনের বিধানসভা নিয়েও সমীক্ষাগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস রয়েছে। অধিকাংশ পূর্বাভাসে এনডিএ জোটকে এগিয়ে রাখা হলেও বিরোধী জোটের অবস্থানও শক্তিশালী বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে বুথফেরত জরিপে স্পষ্ট কোনো একক প্রবণতা না থাকলেও প্রায় সব ক্ষেত্রেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। তবে প্রকৃত ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোট গণনার দিন পর্যন্ত।
সানা/আপ্র/৩০/৪/২০২৬