যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তাঁর বর্তমান মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে রয়টার্স-ইপসোস পরিচালিত এক নতুন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরান নিয়ে তাঁর নীতিগত অবস্থানের কারণে নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে।
চার দিন ধরে পরিচালিত এবং গত সোমবার (২৯ এপ্রিল) শেষ হওয়া জরিপে দেখা যায়, বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। এর আগের ১৫ থেকে ২০ এপ্রিলের জরিপে এই সমর্থন ছিল ৩৬ শতাংশ।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ছিল ৪৭ শতাংশ। এরপর ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পর তাঁর জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা লাগে।
সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকাকে মাত্র ২২ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছেন, যা আগের জরিপে ছিল ২৫ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জরিপে দেখা যায়, রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশ এখনো ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। তবে একই দলের ৪১ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভোটারদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। জরিপে দেখা যায়, স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছে। ৩৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাটকে সমর্থন করেছেন, আর রিপাবলিকানদের সমর্থন দিয়েছেন ২০ শতাংশ ভোটার। প্রায় এক চতুর্থাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।
ট্রাম্প ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জয়ী হন। তবে বর্তমান জরিপে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে ২৭ শতাংশে, যা তাঁর আগের মেয়াদের তুলনায়ও নিম্ন।
সাম্প্রতিক এই জরিপ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনলাইনে পরিচালিত হয়। এতে মোট ১ হাজার ২৬৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন, যাদের মধ্যে ১ হাজার ১৪ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন।
সানা/আপ্র/২৯/৪/২০২৬