জাতীয় সংসদে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানিয়েছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫ কোটি ৫৭ লাখ পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যটন মেগা পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।
তিনি বলেন, ২০২৬-২০৪০ মেয়াদি ‘ট্যুরিজম মেগা প্ল্যান’-এর আওতায় পর্যটন খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, নীতিগত সহায়তা এবং নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০৩০)’ প্রণয়ন করেছে। এর আওতায় ট্যুর অপারেটর, গাইড, স্ট্রিট ফুড বিক্রেতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে পর্যটন খাতে প্রায় ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ কর্মরত থাকলেও ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৭২ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরো জানান, টেকসই পর্যটনের অংশ হিসেবে কুয়াকাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় ইকো-ট্যুরিজম উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন সম্প্রসারণ করা হবে।
বড় বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর মাধ্যমে সবরাং এলাকায় বিশেষ পর্যটন জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন-এর জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসি/আপ্র/২৯/০৪/২০২৬