জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্রে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। গত দেড় মাস ধরে তেল পেতে যেখানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে গ্রাহকদের, সেখানে এখন অধিকাংশ পাম্পেই বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। পর্যাপ্ত সরবরাহ ও কমে যাওয়া চাহিদার ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে।
রাজধানীর মুগদা, রাজারবাগ, আরামবাগ, মৎস্য ভবন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার অন্তত আটটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিন আগেও যেখানে দীর্ঘ সারি ছিল, সেখানে এখন নেই তেমন কোনো ভিড়। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ কোনো গাড়িই আসছে না।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে কর্মীদের অবসর সময় কাটাতে দেখা গেছে। কেউ পাম্প মেশিনের পাশে বসে আছেন, কেউবা আশপাশে ঘোরাফেরা করছেন।
কোথাও দু-একটি গাড়ি, কোথাও একেবারেই ফাঁকা: মুগদার একটি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে দুপুরের দিকে মাত্র দুটি মোটরসাইকেল তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। একই সময়ে স্টেশনে নতুন করে অকটেন তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। কর্মীরা জানান, রোববার থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে।
মতিঝিলের দুটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের কোনো লাইন নেই। মাঝে মধ্যে দু-একটি গাড়ি এলেও দ্রুতই পাম্প আবার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
দৈনিক বাংলার নাভানা সিএনজি স্টেশনে মোটরসাইকেলের লাইন না থাকলেও কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি তেল নিতে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে রমনা এলাকায় কিছুটা ভিড় দেখা গেলেও তা সীমিত, প্রায় ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেলের বেশি নয়।
আরামবাগ ও রাজারবাগ এলাকাতেও একই চিত্র-মাত্র কয়েকটি মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি, কোনো জটলা নেই। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ডিপো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বাড়ায় গ্রাহকরা অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছেন না।
গত কয়েক দিনে বেশিরভাগ যানবাহনে প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে না। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন ফিলিং স্টেশনগুলো আরো ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেছে। তবে দাম বৃদ্ধির প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া তেল কিনছেন না। এতে একদিকে পাম্পে ভিড় কমেছে, অন্যদিকে বাজারে এক ধরনের সতর্ক আচরণ তৈরি হয়েছে।
সানা/আপ্র/৩০/৪/২০২৬