ডিএমপির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলা শুরু হওয়ার পর বিআরটিএর নাম ব্যবহার করে ভুয়া ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রটি ব্যাংক তথ্য ও ওটিপি সংগ্রহ করে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ পঁচিশ হাজার ছয়শ টাকা আত্মসাৎ করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপ-মহাপরিদর্শক সানা শামিনুর রহমান।
তিনি বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাব্বি শেখ, মো. রিয়াদ হোসেন এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা, ফেনী ও ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি বিআরটিএর ওয়েবসাইটের অনুরূপ একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করত। ভুক্তভোগীদের মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে জানানো হতো যে তাদের গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করেছে এবং জরিমানা না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএমএসে দেওয়া লিংকে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারীদের ভুয়া ওয়েবসাইটে নেওয়া হতো, যেখানে জরিমানা পরিশোধের নামে ব্যাংক কার্ড, অ্যাকাউন্ট তথ্য এবং ওটিপি সংগ্রহ করা হতো। দ্রুত পরিশোধ করলে ছাড়ের প্রলোভনও দেওয়া হতো।
এক ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হয়ে স্ত্রীর ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংক অ্যাপের তথ্য দিয়ে ভুয়া পেমেন্ট পোর্টালে প্রবেশ করলে তার হিসাব থেকে তিন লাখ টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর হয় বলে জানানো হয়।
সিআইডি জানায়, এই চক্রের মাধ্যমে মোট তিনটি ঘটনায় সাত লাখ পঁচিশ হাজার ছয়শ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলে প্রতারণার চক্রটি শনাক্ত করা হয়।
সানা শামিনুর রহমান আরো বলেন, ডিএমপির এআই ক্যামেরা ব্যবহারের পর ট্রাফিক মামলা সংক্রান্ত কোনো এসএমএস এখনো পাঠানো হচ্ছে না। নোটিশ দেওয়া হচ্ছে ম্যানুয়ালি। তাই ট্রাফিক জরিমানা বা সরকারি সেবার নামে কোনো এসএমএস, ফোনকল বা লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি না দিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।
সিআইডি সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক লিংক এড়িয়ে চলা এবং ব্যাংক তথ্য গোপন রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৬/৬/২০২৬