চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশের মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং দায়িত্ব ঈমানের সঙ্গে পালনের জন্য দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, হেফাজত আমিরের কাছে তিনি দোয়া চেয়েছেন, যাতে আল্লাহ তাঁকে অর্পিত দায়িত্ব শেষ দিন পর্যন্ত ঈমানের সঙ্গে পালন করার তৌফিক দেন।
তারেক রহমান বলেন, হেফাজত আমিরের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার অংশ হিসেবে তিনি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যেন রক্ষা করতে পারেন, সে জন্যও তিনি দোয়া চেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মুসলমান হিসেবে কাউকে কোনো কথা বা প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করতে হয়। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারলে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের সময় যারা দেশকে অন্যদিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ও হেফাজতসহ বিভিন্ন পক্ষ একসঙ্গে কাজ করেছে। গত কয়েকদিনেও কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ অবস্থায় ভবিষ্যতেও দেশকে সঠিক পথে রাখতে সবাইকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই বছর আগেও তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং আগামী দিনগুলোতেও একসঙ্গে থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টরা কিছু দাবি জানিয়েছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এসব দাবি পর্যায়ক্রমে বিবেচনার চেষ্টা করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশের সব মানুষ ও সন্তান খেয়ে-পরে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এবং একই সঙ্গে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলামকে এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
দেশের উন্নয়নে কর্মসংস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্ট উন্নত করতে হবে।
দেশে অস্থিতিশীলতা থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং এর মাধ্যমে দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
পরে হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাতের পর মোনাজাতে হেফাজত আমির প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য দোয়া করেন। যারা বিরোধিতা বা হিংসা করেন, তাদের হেদায়েতের জন্যও দোয়া করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন।
এরপর রোববার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে সড়কপথে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন তিনি।
কবর জিয়ারতের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ টি এম শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক খলীল আহমেদ কাসেমী উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা শাহ আহমদ শফী ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মারা যান। প্রায় সাড়ে তিন দশক তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
আহমদ শফীর কবর জিয়ারতের আগে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়িতে হেফাজতের বর্তমান আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সানা/আপ্র/৯/৮/২০২৬