গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

মেনু

জাতীয় ট্র্যাজেডি সড়কে মৃত্যুর মিছিলেও সব সেক্টর নির্বিকার

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ২০:২৮ পিএম, ০৮ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪০ এএম ২০২৬
জাতীয় ট্র্যাজেডি সড়কে মৃত্যুর মিছিলেও সব সেক্টর নির্বিকার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

সকালবেলা ঘুম থেকে জেগে খবরের কাগজ হাতে নিলে কিংবা মুঠোফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখলে যে বীভৎস দৃশ্য বা সংবাদ আমাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও শোকাচ্ছন্ন করে তোলে, তা হলো দেশের কোনো না কোনো সড়কে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাকা ঘোরার শব্দে যেমন জীবনের গতি সচল থাকে, ঠিক তেমনি সেই চাকার নিচেই পিষ্ট হয়ে ঝরে যায় বহু তাজা প্রাণ। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের হিসাব মিলালে দেখা যায়, আমাদের দেশে প্রতিদিন গড়ে ত্রিশ জনের অধিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এই যান্ত্রিক তাণ্ডবে। এই মৃত্যুর মিছিল কোনো আকস্মিক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এক দীর্ঘমেয়াদী, পুঞ্জীভূত ও মানবসৃষ্ট সংকটের নির্মম বহিঃপ্রকাশ- যা আমাদের সমাজব্যবস্থাকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

একটি স্বাধীন ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নাগরিক জীবনের গতি সহজ ও নিরাপদ করার কথা থাকলেও, বর্তমানে তা এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘর থেকে বের হওয়া মানুষটি সুস্থ শরীরে পুনরায় গন্তব্যে বা পরিবারের কাছে ফিরতে পারবেন কি না, সেই তীব্র শঙ্কা আজ প্রতিটি মানুষের মনে স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় যারা প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন, তাদের একটি বড় অংশই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বা উদীয়মান তরুণ সমাজ- যারা কি না দেশের ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। ফলে একটি মাত্র দুর্ঘটনা কেবল একজন মানুষের জীবন প্রদীপই নিভিয়ে দেয় না; বরং পুরো পরিবারটিকে চিরতরে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক ধ্বংসের অতল গহ্বরে ঠেলে দেয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) হিসাবে ২০১৮ সালে সড়কে ৪ হাজার ৭৬ জনের, পরের বছর আরও বেশি ৪ হাজার ৩৫৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০২০ সালে প্রাণহানি কিছুটা কমে ৩ হাজার ৫৫৮ জন হয়। অবশ্য ওই বছর করোনার কারণে প্রায় ৬৭ দিন যান চলাচল বন্ধ ছিল। গত বছর সড়কে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭৭৬ জনে। চলতি বছর প্রাণহানি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু আরও বেশি। তাদের হিসাবে, ২০১৮ সালে সড়কে ৭ হাজার ২২১ ও পরের বছর ৭ হাজার ৮৮৫ জন নিহত হন। ২০২০ সালে প্রাণহানির সংখ্যা কিছুটা কমে হয় ৬ হাজার ৬৮৬ জন। গত বছর প্রাণহানি আবারও বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮০৯ জনে।

ভয়ঙ্কর ওইসব মৃত্যুর মিছিলের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে বহুমুখী, জটিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সব কারণ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং দৃশ্যমান কারণ হলো যানবাহন চালকদের বেপরোয়া মনোভাব এবং নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা। সামান্য কিছু সময় বাঁচানোর তাগিদে কিংবা অতিরিক্ত ট্রিপ মারার লোভে চালকরা যেভাবে ওভারটেক করার বিপজ্জনক প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন, তা প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। মহাসড়কগুলোর অপরিকল্পিত নকশা এবং চালকদের যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের অভাব এই সংকটকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বহু চালকেরই ড্রাইভিংয়ের ওপর কোনো বৈধ বা মানসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকে না- যা সড়কে বিশৃঙ্খলার মূল উৎস হিসেবে কাজ করে। এর পাশাপাশি দেশের সড়কগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ ফিটনেসবিহীন, লক্কড়ঝক্কড় ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন চলাচল করছে, তা মৃত্যুঝুঁকিকে প্রতিনিয়ত উন্মুক্তভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। মাঝপথে হঠাৎ ব্রেক ফেল করা, চাকা ফেটে যাওয়া কিংবা স্টিয়ারিং নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস বা ট্রাক খাদে কিংবা অন্য যানবাহনের ওপর পড়ার ঘটনা নিত্যদিনের সংবাদে পরিণত হয়েছে। অথচ এই গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও মাঝেমধ্যে নামমাত্র অভিযান ছাড়া স্থায়ী কোনো প্রতিকার দেখা যায় না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মহাসড়কে ধীরগতির যান যেমন নছিমন, করিমন কিংবা ইজিবাইকের অবাধ চলাচল- যা দূরপাল্লার দ্রুতগতির বাসগুলোর জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সড়ক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইনের শিথিল প্রয়োগ এবং দুর্নীতির বিষবাষ্প পরিস্থিতির আরও মারাত্মক অবনতি ঘটাচ্ছে। কাগজে-কলমে সড়ক পরিবহন আইন এবং এর বিভিন্ন ধারা কঠোর করা হলেও বাস্তবে তার প্রয়োগের জায়গায় রয়েছে নানা অদৃশ্য দেওয়াল। রাজনৈতিক চাপ, প্রভাবশালী পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের অযৌক্তিক দৌরাত্ম্য এবং আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে অপরাধীদের সহজে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি চালকদের আরও বেপরোয়া করে তোলে। জরিমানার পরিমাণ সামান্য হওয়ায় কিংবা অপরাধ করেও সহজেই শাস্তি এড়াতে পারার কারণে চালকদের মনে আইনের প্রতি কোনো ধরনের শ্রদ্ধাবোধ বা ভয় কাজ করে না। ফলে সড়কের শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং মৃত্যুর হার কেবল ঊর্ধ্বমুখীই হতে থাকে।

অবকাঠামোগত ত্রুটি ও পথচারীদের সচেতনতার অভাবও ওইসব প্রাণহানির জন্য সমানভাবে দায়ী। দেশের অনেক মহাসড়কে পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড, স্পিড ব্রেকার, মানসম্মত স্ট্রিট লাইটিং ও প্রয়োজনীয় ফুটওভার ব্রিজের চরম ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া নগর বা জনবহুল এলাকার ফুটপাতগুলো অবৈধভাবে হকার ও নানা স্থাপনার মাধ্যমে দখল হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে মূল সড়কের ওপর দিয়েই হাঁটতে হয়- যা তাদের মুহূর্তের মধ্যে যে কোনো বড় গাড়ির শিকারে পরিণত করে। স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোনো ধরনের কার্যকর সচেতনতামূলক শিক্ষা না থাকার কারণেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য চালকদের পাশাপাশি পরিবহন মালিকদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

অনেক সময় নামমাত্র মালিকরা চালকদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত জমা বা আয়ের চাপ সৃষ্টি করেন। ফলে চালকরা দিনরাত গাড়ি চালাতে বাধ্য হন এবং ক্লান্তিজনিত কারণে ভুল করে বসেন। অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব চালকদের মানসিক ভারসাম্য ও মনোযোগ বিঘ্নিত করে, যা শেষ পর্যন্ত মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মালিক সমিতির এই অযৌক্তিক ও অমানবিক শর্তগুলো নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। এর পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক চালকদের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করতে হবে এবং তা কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। কোনো চালক টানা দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন কি না, তা মনিটরিং করার আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। চালকদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে দৃষ্টিশক্তি ও মানসিক স্থায়িত্ব পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ চালক ছাড়া কখনোই নিরাপদ সড়কের কল্পনা করা যেতে পারে না।

যাত্রীদের নিজেদের সচেতনতা এবং অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হওয়াটাও এই সংকট নিরসনে একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কোনো চালক যখন অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান কিংবা নিয়ম ভঙ্গ করেন, তখন যাত্রীদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করার সাহস ও সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। অনেক সময় যাত্রীরা নীরবে সহ্য করেন বলেই চালকরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। চালক ও যাত্রীর মধ্যকার এই আস্থার ও সতর্কতার সম্পর্ক সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ এবং চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়নও জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অনেক সময় সঠিক সময়ে ট্রমা কেয়ার সেন্টার বা বিশেষায়িত হাসপাতাল না থাকায় কিংবা যানজটের কারণে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় পথেই বহু মানুষ মারা যান। মহাসড়কগুলোর পাশে আধুনিক ট্রমা সেন্টার এবং দ্রুতগতির অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুর হার একটি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।

গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারণার পরিধি আরও বাড়াতে হবে। টেলিভিশন, রেডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে সচেতনতামূলক কন্টেন্ট প্রচার করে সাধারণ মানুষ এবং চালকদের মনে দীর্ঘমেয়াদী দাগ কেটে দিতে হবে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কুফল এবং একটি পরিবারের কাছে প্রিয়জন হারানোর বেদনা কতটা মর্মান্তিক, তা নিয়মিত প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মনস্তত্ত্বে পরিবর্তন আনতে হবে। এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগের পরিবর্তে প্রয়োজন একটি সামগ্রিক, কঠোর ও দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় রূপরেখা।

সবার আগে পরিবহন খাতের লাইসেন্স প্রদানের যাবতীয় দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করে পেশাদার ও দক্ষ চালক তৈরির জন্য দেশব্যাপী আধুনিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি যানবাহনের নিয়মিত রুটিন চেকআপ বাধ্যতামূলক করে ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলোর চলাচল স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। মহাসড়কগুলোতে দ্রুতগতি ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন বা পৃথক রাস্তা নির্মাণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে জোরালো দাবি। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে যেকোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা পেশাগত প্রভাব উপেক্ষা করে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে চালকদের মধ্যে আইন অমান্য করার প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে। জনবহুল এলাকায় পথচারীদের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণ এবং সচেতনতামূলক প্রচারণাকে একটি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই এক অভূতপূর্ব আন্দোলনের শুরু হয়েছিল। ফুটপাতে বাসচাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর পর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমেছিল। ধীরে ধীরে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা রাস্তায় থেকে বড়দের ভুল-বিশৃঙ্খলা ধরিয়ে দেয়।

আন্দোলন চলাকালে মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বক্তব্য ছিল, ‘শিশুরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে, বিবেককে জাগ্রত করেছে।’ তখন দায়িত্বশীল সবাই সড়ক নিরাপদ ও বিশৃঙ্খলমুক্ত করতে নানা আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে গেলে সবাই সব ভুলে গেছেন। আগের মতোই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, মৃত্যু হচ্ছে।

২০১৮ সালের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ৯টি দাবি ছিল। এর কিছু ছিল তাৎক্ষণিক- যার কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু অন্য দাবির কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। যেমন- প্রাণহানির দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং লাইসেন্স ছাড়া যানবাহন চালাতে না দেওয়ার দাবি পূরণ হয়নি।

২০২১ সালের নভেম্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান নিহত হলে আবার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। এবার ১১ দফা দাবি পেশ করে তারা। এবারও তাৎক্ষণিক কিছু দাবি বাস্তবায়িত হলেও দীর্ঘমেয়াদি দাবি অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সড়কে ট্রাফিক বাতি বসানো, শহরে জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করার দাবির কিছুই হয়নি।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের মালুমঘাটায় পিকআপের ধাক্কায় ছয় ভাইয়ের মৃত্যু; ১৬ জুলাই ময়মনসিংহের ত্রিশালে ট্রাকচাপায় স্বামী, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তাদের এক মেয়ের মৃত্যু এবং মৃত্যুর আগে গৃহবধূর সন্তান জন্মদান সারা দেশের মানুষকে নাড়া দেয়।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সরকার সড়ক পরিবহন আইন করে। তবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারার কার্যকারিতা স্থগিত করে। সাজা কমাতেও আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। তবে এখনো যথাযথ পরীক্ষা না দিয়েই পেশাদার চালক লাইসেন্স পাওয়া পাচ্ছে। চলাচলের অনুপযোগী যানবাহনও অবাধে চলছে।

প্রতিদিন সড়কে আর কোনো মায়ের কোল খালি হোক কিংবা কোনো শিশুর বুকফাটা কান্না শোনা যাক- এমন বাংলাদেশ দেখতে চাইলে এখনই ঐক্যবদ্ধভাবে এ মারণব্যাধির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও বিশ্লেষক
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব)

কেএমএএ/আপ্র/০৮.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

এআই বাস্তবতায় দক্ষতাই হবে মূল শক্তি
০৮ আগস্ট ২০২৬

এআই বাস্তবতায় দক্ষতাই হবে মূল শক্তি

সুখদেব কুমার সানাএআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এখন কর্মসংস...

মুখ-মাড়ি-গলায় নীরবে আঘাত হানে সিগারেটের ধোঁয়া
০৬ আগস্ট ২০২৬

মুখ-মাড়ি-গলায় নীরবে আঘাত হানে সিগারেটের ধোঁয়া

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

বেঁচে আছি এটাই মিরাকল...
০৬ আগস্ট ২০২৬

বেঁচে আছি এটাই মিরাকল...

জাহিদুল ইসলামজুলাই বিপ্লবের দিনগুলোতে আন্দোলনের মাঠে পুলিশ-আওয়ামী লীগের অন্যতম টার্গেট ছিল সাংবাদিক।...

ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট: ধেয়ে আসছে মহাবিপর্যয়!
০৬ আগস্ট ২০২৬

ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট: ধেয়ে আসছে মহাবিপর্যয়!

মেশকাত সাদিকমনে করেছিলাম আর লিখবো না। কিন্তু বিবেকের কাছে পরাজিত হয়ে আবার লিখতে বসলাম। আজ ঐতিহাসিক ৫...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত, জানালেন জয়সওয়াল

বাংলাদেশের বর্তমান বৈধ ও গঠিত সরকারের বিষয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য সমর্থন করে না নয়াদিল্লি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমাদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। আমি আবারো সেটিই বলছি। এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।” প্রিয় পাঠক. আপনি কি মনে করেন ভারত সঠিক বলেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 18 ঘন্টা আগে