আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্বনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন আরাঘচি।
তিনি বলেন, মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ালে বহিরাগতদের সৃষ্ট যেকোনো চ্যালেঞ্জ সরাসরি মোকাবিলা করা সম্ভব। এখন সময় নিজেদের ওপর নির্ভর করা এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্বকে গ্রহণ করার।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরান সংলাপে বসতে প্রস্তুত। তবে ইরানের সার্বভৌমত্ব বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে দুর্বল করে-এমন কোনো দাবি তেহরান মেনে নেবে না।
পেজেশকিয়ান আরো বলেন, আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা এবং আঞ্চলিক বিভাজন ঠেকানো জরুরি।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের তৈরি ‘চোরাবালিতে’ আটকা পড়েছে এবং সামরিক ও গণমাধ্যমের নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত অচলাবস্থা’, পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে বিভাজন এবং দেশটির আধিপত্যের দুর্বলতার নতুন দিক সামনে এনেছে। এই পরিস্থিতি তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।
আরাঘচি তার পোস্টে আরো দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক শক্তির মুখোমুখি হয়ে নিজেদের প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর কয়েক মাস ধরে চলা আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই এসব মন্তব্য করেন আরাঘচি। সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে ইরানের ভূখণ্ডে হামলার জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ এর বাইরেও বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে।
তবে সংঘাতের পক্ষগুলোর সামরিক সাফল্য ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে করা দাবিগুলো পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
সানা/ডিসি/আপ্র/৮/৮/২০২৬