গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

মেনু

ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট: ধেয়ে আসছে মহাবিপর্যয়!

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩২ পিএম, ০৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৫ এএম ২০২৬
ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট: ধেয়ে আসছে মহাবিপর্যয়!
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মেশকাত সাদিক

মনে করেছিলাম আর লিখবো না। কিন্তু বিবেকের কাছে পরাজিত হয়ে আবার লিখতে বসলাম। আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট। ২০২৪ সালের এই দিনে এক নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। প্রাণভয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দিল্লিতে পালিয়ে যান। সাথে দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটিও জনরোষের ভয়ে গণচোখে পলাতক হয়। ছাত্র-জনতার এই রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে প্রায় দেড় থেকে ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। বলাবাহুল্য, যারা প্রাণোৎসর্গ করে তাদের বস্তুত এই অভ্যুত্থান খুব একটা কোনো কাজে আসেনি। কিছুটা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তিই বলা যায়।

যাহোক, দুই বছরের ব্যবধানে অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারীদের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের এত ঘৃণা ও ক্ষোভ কেন জন্ম নিলো? তার একটি বিশ্লেষণ ও সেই নেতৃত্বের আত্মজিজ্ঞাসা ভীষণ প্রয়োজন। অভ্যুত্থানের ছাত্র-নেতৃত্বের অবস্থা কিছুটা জড়নবৎঃ ইৎড়হিরহম-এর ঞযব চধঃৎরড়ঃ: অহ ঙষফ ঝঃড়ৎু কবিতার মতো। 
ওঃ ধিং ৎড়ংবং, ৎড়ংবং, ধষষ ঃযব ধিু,
ডরঃয সুৎঃষব সরীবফ রহ সু ঢ়ধঃয ষরশব সধফ:
ঞযব যড়ঁংব-ৎড়ড়ভং ংববসবফ ঃড় যবধাব ধহফ ংধিু,
ঞযব পযঁৎপয-ংঢ়রৎবং ভষধসবফ, ংঁপয ভষধমং ঃযবু যধফ,
অ ুবধৎ ধমড় ড়হ ঃযরং াবৎু ফধু.
এই কবিতায় বলা হয়েছে, যদি জনগণকে বলা হতো; আকাশ হতে সূর্য এনে দাও। তখন তারা বলতো, অহফ ধভঃবৎধিৎফ, যিধঃ বষংব? অথচ এক বছর যেতে না যেতেই সেই বীরের প্রতি শুরু হলো, ঘৃণা, অবজ্ঞা ও সমালোচনা। তাকে দেওয়া হলো, দেশদ্রোহী তকমা। তাদের পাশে এখন কেউ নেই। ঞযবৎব’ং হড়নড়ফু ড়হ ঃযব যড়ঁংব-ঃড়ঢ়ং হড়/ি ঔঁংঃ ধ ঢ়ধষংরবফ ভবি ধঃ ঃযব রিহফড়ংি ংবঃ. আজ জনগণ এতটাই ক্ষুব্ধ যে, দেশপ্রেমিকের অপরাধ ও অপচারের কারণে শুরু করেছে তাকে নির্যাতন। পাথর নিক্ষেপ চলছে বৃষ্টির মতো। তখন দেশপ্রেমিকের অবস্থা কবির ভাষায় এমন- ও মড় রহ ঃযব ৎধরহ, ধহফ, সড়ৎব ঃযধহ হববফং,/ অ ৎড়ঢ়ব পঁঃং নড়ঃয সু ৎিরংঃং নবযরহফ;/ অহফ ও ঃযরহশ, নু ঃযব ভববষ, সু ভড়ৎবযবধফ নষববফং,/ ঋড়ৎ ঃযবু ভষরহম, যিড়বাবৎ যধং ধ সরহফ,/ ঝঃড়হবং ধঃ সব ভড়ৎ সু ুবধৎ’ং সরংফববফং.

রবার্ট ব্রাউনিংয়ের এই কবিতার মূল বক্তব্য হলো, মানুষের জনপ্রিয়তা, ক্ষমতা, সাফল্য এবং জনমত অস্থায়ী ও পরিবর্তনশীল। কবিতার শুরুতে দেখা যায়, এক বছর আগে দেশপ্রেমিক নায়ককে জনগণ বিপুল উৎসাহ ও সম্মানের সঙ্গে বরণ করে নেয়। শহরের সর্বত্র উৎসবের আবহ, ফুল, পতাকা এবং মানুষের উল্লাস। জনগণ তাকে বীর হিসেবে স্বীকৃতি দিল এবং তার কাছ থেকে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা করলো। কিন্তু মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সেই একই মানুষ সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থার মুখোমুখি। যাদের জন্য তিনি সর্বস্ব উৎসর্গ করেছিলেন, তারাই তাকে অপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের মঞ্চে নিয়ে যাচ্ছে। জনতার প্রশংসা ও উল্লাসের স্থান নিয়েছে ঘৃণা, অবজ্ঞা ও পাথর নিক্ষেপ। কিন্তু কেনো এমন হলো? সেই আত্মসমালোচনা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। চলুন একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ করা যাক-

অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্র উপদেষ্টা পদে অধিষ্ঠান ও এনসিপি গঠন: ২০২৪-এর ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরু হয়। এতে শুরুতেই নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা হন। এরপর নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পদ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পদত্যাগ করেন। এবং তদস্থলে ২০২৪-গণঅভ্যুত্থানের ‘মাস্টার মাইন্ড’ খ্যাত মাহফুজ আলম তথ্য উপদেষ্টা হন। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (ঘঈচ) আনুষ্ঠানিকভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আত্মপ্রকাশ করে। দলটি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতা ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মূলধারার গণমাধ্যম ও বিভিন্ন টিভি টকশোতেও এনসিপি গঠন, দল পরিচালনার তহবিল ইত্যাদি ইত্যাদি আলোচনা হতে থাকে। তখন উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় ‘তারা দুর্নীতি’ করেছেন- এমন বহু বাক-বাক্যে দেশের ভেতরে ও বাইরের বাঙালি সমাজ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। ছাত্রনেতাদের মধ্যে একমাত্র হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে কিঞ্চিত কম, তবে অন্য কেন্দ্রীয় সকল নেতাকে নিয়েই দুর্নীতি, বদলি বাণিজ্য নানাবিধ বিষয় ভয়াবহভাবে চাউর হতে থাকে। সেগুলি ধীরে ধীরে মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতাও পেতে শুরু করে। সামাজিক মাধ্যমের এই যুগে তথ্য ও অপতথ্য দুটিই ছড়িয়ে পড়ে। কেউ ঠেকাতে পারে না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এনসিপি অনেক পিছিয়ে। তাদের যেটুকু সমর্থন তা, জামায়াত শিবিরই দিয়ে থাকে। তাহলে বোঝা গেল, তারা মাইনরিটি। নিঃসন্দেহে তাই। তবে, তারা মনে করছে, দেশে তাদের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। এভাবে, তারা মহাভুলের মধ্যে আছে।

এনসিপির ভুল: এনসিপি ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজপথে নেমে আসা জনগণকে মনে করেছে তাদের সমর্থক। এটি ভুল। ক্ষেত্রবিশেষে তা মহাভুল। কারণ ছাত্র-নেতৃবৃন্দ ৩৬ দিন আন্দোলন করেছে। সরকারের পতন হয়েছে। এই আন্দোলনে কিন্তু বিএনপি এবং জামায়াতের বাইরের কোন লোক ছিল না। তাদের নিজস্ব লোক বলতে খুবই সামান্য বলা যেতে পারে। এর মধ্যে তরুণ-যুবক ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বেশ কিছু গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হলেও, ডাকসু নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী আব্দুল কাদেরের ১০৮ ভোট পাওয়া দেখেও এনসিপি কোনো শিক্ষা নেয়নি। সত্যিকার অর্থে তাদের সারাদেশে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে ৩-৪ হাজার ভোটার থাকতেও পারে। এই জনসমর্থন নিয়ে তাদের সামনে এগোনো খুব একটা আশাপ্রদ কিছু হবে বলে মনে হয় না।

বিএনপির সমালোচনা: এনসিপির মহাভুলের আরেকটি হলো- বিএনপিকে নগ্ন ও অরাজনৈতিক ভাষায় আক্রমণ করা। এনসিপির নেতৃত্ব মনে করছে, নগ্ন, অরুচিকর ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করলেই মনে হয়, বিপ্লবী হওয়া যায়। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাস তা বলে না। বিপ্লবীকে কিন্তু প্রকৃত বীর হতে হয়। প্রকৃত বীর ও বিপ্লবী ছিলেন, কাজী নজরুল ইসলাম। যিনি শালীনতা রক্ষা করে কবিতা দিয়ে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছিলেন। যেকোনো দলের বয়ঃজ্যেষ্ঠ নেতাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালি গালাজ করা স্বাভাবিক-সামাজিক আচরণ নয়। ছাত্র-নেতাদের বিশেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সালাহ উদ্দীন আম্মার এবং এদের মতো রক্ত গরম অসংলগ্ন ভাষা ব্যবহারকারীদের রাজনৈতিক শালীনতা ও বিপ্লবীর বৈশিষ্ট্য ভালো করে পড়তে হবে। ছাত্র নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে এক সময় বিএনপি-জামায়াত। আর এখন জামায়াতের খেলোয়াড় হয়ে বিএনপিকে অশ্রাব্য কটুকথা বললে, তাদের মাথা ছাতাহীন হয়ে যাবে। আর যদি তাদের এমন অরাজনৈতিক আচরণকে আওয়ামী লীগের ভোটারগণ সমর্থন দেন, তাহলেও সেটি এনসিপির বা জামায়াতের কোনো কাজে আসবে না। কারণ, ৩৬ দিন আন্দোলনের পর এখন যেমন বিএনপি ক্ষমতায়, ঠিক একইভাবে এনসিপি-জামায়াতকে সামনে দিয়ে আওয়ামী লীগ ও ভারত যদি বিএনপির পতন ঘটায় সেক্ষেত্রেও কিন্তু আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে। কারণ, সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বলে, জামায়াত-এনসিপি জোটের নিকট ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ বাংলাদেশ পীর পূজারীদের দেশ। এখানে মানুষকে মানুষ আইডল বানায়। এখানে রাজনৈতিক আদর্শ খুব একটা মানুষ দেখে না। যেমন আওয়ামী লীগ মানে শেখ মুজিব। তাদের দলের ম্যানিফেস্টো কেউ জানে না। বিএনপি মানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া ও আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। দুজনই তুমুল জনপ্রিয়। বিএনপি মানেই তারা। আর জামায়াতের কিছু লোক পড়ালেখা করে। দলের আদর্শ নীতি জানেন। তবে তাদেরও সাধারণ জনগণের সমর্থন পুরোটাই ছিল আল্লামা সাঈদী-কেন্দ্রিক।

চলছে মহাষড়যন্ত্র: ৫ আগস্ট ২০২৪ এর থেকে ভারত বা তাদের দোসরগণ বসে নেই। তারা ফ্যাসিস্ট যুগের মতোই ন্যারেটিভ তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়ায় বিনিয়োগ আবারও চলছে। আর এসব না চললেও অসুবিধে নেই। কারণ ইতোমধ্যেই জামায়াতের ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা পুরোটাই শেষ। বলে রাখা ভালো- জামায়াত যে কোরআনের আইন বাস্তবায়ন করতে চায়, এটি জনগণের মধ্যে প্রথিত করেছিলেন শহীদ আল্লামা সাঈদী। এখন তিনি নেই। জামায়াতকেও তুলে ধরার জন্য সেই মাপের আলেমও নেই। আমীর হামজার মতো যারা হয়ে উঠছিলেন, তারাও অত্যন্ত অবান্তর ভিত্তিহীন, অপতথ্য ও মিথ্যা উদাহরণ সেট করাতেই, তাদেরও গ্রহণযোগ্যতা নেই। অন্যপক্ষে জামায়াতের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যন্ত অসংখ্য নেতা নানাবিধ অপরাধের সাথে জড়িত। হয়তো অনেকেই বলবে, অন্যান্য দলে তো এর চেয়েও ভয়াবহ খারাপ নেতাকর্মী রয়েছে। আলবৎ সত্য। কিন্তু সেই সব দল তো কখনো হোটেলে নারী নিয়ে যাওয়া বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত কথা বলেনি। সেই কারণে তাদের এক হাজার অপরাধের চেয়ে আলেম সমাজের একটি অপরাধই অনেক বেশি সামাজিক দায় নিয়ে পড়ে। বিভিন্ন হাফেজি খানায় যা ঘটছে, আর যা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, তার যদি ১ শতাংশও সত্য হয়, তা তো ভয়াবহ। এরজন্য জামায়াতের দায়িত্বশীল কারও কাছ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেল না। অথবা বাচ্চাদের নিপীড়নের বিষয়ে এলাকায় এলাকায় কোনো নিরোধ কমিটিও তারা করেনি। মিডিয়ায় প্রচার ও অপপ্রচারের শিকার জামায়াত, জনগণের কাছে এখন একটি ‘অনৈসলামিক’ সাধারণ রাজনৈতিক দল।

জামায়াত-এনসিপির পর বিএনপি: গত ২০০৮ সাল থেকে ‘র’-এর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দল পরিচালনা করে আওয়ামী লীগ। তখনকার ফর্মুলা ছিল, আগে জামায়াত-শিবির নিধন করো; এরপর বিএনপি। ফলাফল ১৬ বছরের জঘন্যতম দুঃশাসন, দুরাচার। গুম, খুন আর ফ্যাসিবাদী শাসন। এবারও সেটিই চলছে। এখন জামায়াত-এনসিপির প্রতি জনগণ অতিষ্ঠ করে তোলা হচ্ছে। এ মিশন সফল হলেই শুরু হবে বিএনপির বিরুদ্ধে মেগা প্রজেক্ট। দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি নাটক করে বিশ্বে সেটি ফলাও করে প্রচার করা হবে। দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করা হবে। বিএনপি যতই চায়না ও আমেরিকাকে একসাথে পাশে রাখার চেষ্টা করুক না কেন, পারবে না। কারণ চায়নাকে ট্যাকল করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারতকেই অগ্রাধিকার দেবে। তখন বিএনপিও ব্যাপক বিপদেই পড়বে।

গুপ্ত রাজনীতি ‘বিএনপি’র কালশাপ: বিএনপি জামায়াত শিবিরকে গুপ্ত বলে মজা নিলেও ‘বিএনপি’র মধ্যেই এখন ছাত্রলীগ জায়গা পাচ্ছে বেশি। এরাই ‘বিএনপি’র চূড়ান্ত সর্বনাশ করবে। শিবির যেমন ছাত্রলীগের মধ্যে গুপ্ত থেকে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দিয়েছে, তেমনি ছাত্রলীগও ছাত্রদলের মধ্যে গুপ্ত থেকে ‘বিএনপি’র পতন ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগের এই অপরাধী চক্র ‘বিএনপি’র মধ্যে ঘাঁপটি মেরে থেকে জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকে ঘায়েল করবে। এরপর পাতা খেয়েই পাতার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবে রেশম পোকা। ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো বিচ্ছিন্ন হলেই শুরু হবে আবারও ভারতীয় আধিপত্যবাদ। বাংলাদেশে তখন কোনো মুসলমান আর থাকতে পারবে না। থাকবে শুধু রাম-বাম আর আওয়ামী লীগ।

উহুদ যুদ্ধ ও ৫-আগস্ট ২০২৪: উহুদ যুদ্ধের (৬২৫ খ্রিস্টাব্দ) শুরুতে মুসলমানরা বিজয়ের পথে এগিয়ে ছিলেন। রাসুল (সা.) উহুদ পাহাড়ের একটি গিরিপথে পঞ্চাশজন তীরন্দাজকে নিয়োজিত করে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন তারা নিজেদের অবস্থান ত্যাগ না করেন। কিন্তু যুদ্ধের মাঝপথে কিছু তীরন্দাজ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের আশায় সেই স্থান ছেড়ে চলে যান। এই সুযোগে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে পেছন দিক থেকে আক্রমণ করেন। ফলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায় এবং মুসলমানরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন। এ যুদ্ধে মহানবী (সা.) আহত হন এবং তাঁর প্রিয় চাচা হযরত হামজা (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। এই ঘটনাটি বলার কারণ হলো-‘কিছু তীরন্দাজ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহের আশায় সেই স্থান ছেড়ে চলে যান।’ এরপর মুসলমানরা যুদ্ধে পরাজিত হন।

আমার কাছে মনে হয়, ৫ আগস্টের পর যেভাবে সম্পদ সংগ্রহের প্রতিযোগিতা দেখলাম, এতে ওই বিজয় বেশিদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে না। মহাবিপদ ও বিপর্যয় ধেয়ে আসছে। মুসলমানদের রক্তে বাংলাদেশ হাঁটুপ র্যন্ত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লেখক: রাজনীতি বিশ্লেষক
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব)

কেএমএএ/আপ্র/০৬.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

মুখ-মাড়ি-গলায় নীরবে আঘাত হানে সিগারেটের ধোঁয়া
০৬ আগস্ট ২০২৬

মুখ-মাড়ি-গলায় নীরবে আঘাত হানে সিগারেটের ধোঁয়া

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

বেঁচে আছি এটাই মিরাকল...
০৬ আগস্ট ২০২৬

বেঁচে আছি এটাই মিরাকল...

জাহিদুল ইসলামজুলাই বিপ্লবের দিনগুলোতে আন্দোলনের মাঠে পুলিশ-আওয়ামী লীগের অন্যতম টার্গেট ছিল সাংবাদিক।...

নারী ও শিশু নির্যাতন: বর্তমান বাস্তবতা ও আমাদের দায়বদ্ধতা
০৩ আগস্ট ২০২৬

নারী ও শিশু নির্যাতন: বর্তমান বাস্তবতা ও আমাদের দায়বদ্ধতা

নিকোলাস বিশ্বাসনারী ও শিশু নির্যাতন কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা অপরাধের পরিসংখ্যানগত হিসা...

মাদক নিয়ন্ত্রণে কথার চেয়ে কাজ জরুরি
০৩ আগস্ট ২০২৬

মাদক নিয়ন্ত্রণে কথার চেয়ে কাজ জরুরি

মাহবুবউদ্দিন চৌধুরীএকটি সমৃদ্ধ, মেধাভিত্তিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই