দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় অভিযুক্ত রিপন টুডুর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল ও সাইকেলসহ বিভিন্ন মালামাল মহাসড়কে এনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের জামতলী বাজার এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন কয়েক গ্রামের মানুষ। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
স্থানীয় ও স্বজনদের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস আগে জামতলী বাজারসংলগ্ন নশিপুর-খোশালপুর এলাকার এক সন্তানের জননী জিন্নাতুন বেগমের সঙ্গে রিপন টুডুর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে জিন্নাতুন তার চার বছরের শিশুকন্যা রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
স্বজনদের দাবি, প্রায় এক মাস আগে রিপন টুডু রুহিকে হত্যা করে কোথাও মাটিচাপা দিয়ে রেখেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় জিন্নাতুনকে মারধর, হাত-পা বেঁধে রাখা ও ঘরে আটকে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জিন্নাতুনের পরিবারের দাবি, প্রায় সাত দিন আগে তিনি কৌশলে রিপনের বাড়ি থেকে বের হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে তিনি কয়েক মাসের নির্যাতন এবং শিশুকন্যাকে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।
এর মধ্যে শনিবার রাতে রিপন টুডু ছুরির ভয় দেখিয়ে জিন্নাতুনকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রোববার সকালে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে রিপনকে গ্রেপ্তার ও শিশু রুহির সন্ধানের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা রিপনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন মালামাল মহাসড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জিন্নাতুনের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে প্রায় তিন মাস আগে রিপন তার ভাতিজিকে নিয়ে যান। সাত দিন আগে জিন্নাতুন ফিরে এসে নির্যাতনের কথা জানান এবং শিশুকন্যাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দিনাজপুর কোতওয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ নুরনবী বলেন, উত্তেজিত জনতা রিপন টুডুর বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কিছু মালামালে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
পরে সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাতুনের বাবার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জিন্নাতুনকে উদ্ধারের পাশাপাশি শিশু রুহির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
সানা/আপ্র/২১/৯/২০২৬