ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী অনুশ্রী দাশের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরের ইমপেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। ওই রাতেই সীতাকুণ্ডের শংকর মঠের মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
অনুশ্রী সুবল চন্দ্র দাশ ও লিপি দাশ দম্পতির দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছোট। গত ২ আগস্ট ধুমধাম করে তার জন্মদিন পালন করা হয়েছিল। এর কিছুদিন পরই অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনুশ্রীকে প্রথমে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। তার বাবা সুবল চন্দ্র দাশ বলেন, পরীক্ষার রিপোর্ট ভালো থাকলেও মেয়ে মুখে খাবার খেতে পারছিল না। পরে শুক্রবার তাকে ডায়াবেটিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন বিকেলে পরীক্ষার প্রতিবেদনে তার প্লাটিলেট কমে ২৩ হাজার ৫০০-তে নেমে আসে। তখন চিকিৎসকেরা তাকে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।
মেয়েকে নিয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সন্ধানে ডায়াবেটিস হাসপাতাল থেকে বের হন সুবল। তিনি জানান, মেডিকেল সেন্টার, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, সার্জিস্কোপ ও মা ও শিশু হাসপাতালে খোঁজ করেও কোথাও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের শয্যা খালি পাননি। পরে বাধ্য হয়ে অনুশ্রীকে ইমপেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুবল চন্দ্র দাশ জানান, শুক্রবার রাত ১টার দিকে ইমপেরিয়াল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মেয়েকে দেখতে যান তিনি। তখন অনুশ্রী তাকে বলে, ‘বাবা, আমি বাসায় যাব।’
পরদিন দুপুরে চিকিৎসকেরা তাকে ডেকে অনুশ্রীকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার কথা জানান। সুবল বলেন, তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তার মেয়ের অবস্থা সংকটাপন্ন।
শনিবার বেলা ৩টা ২২ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সুবল জানান, তার মেয়ে অনুশ্রীকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আরেকটি স্ট্যাটাসে মেয়ের মৃত্যুর খবর জানান তিনি।
দিবাগত রাত পৌনে ৪টার দিকে মেয়ের শেষযাত্রার ছবি প্রকাশ করে সুবল লেখেন, ‘আমার মামণি অনুশ্রীকে কত সুন্দর করে সাজিয়ে দিলাম। বাবার কত আদরের মেয়ে ছিল। ঈশ্বরের চরণে শেষ বিদায় দিয়ে আসলাম।’
মেয়ের মৃত্যুতে শোকাহত সুবল চন্দ্র দাশ বলেন, শনিবার দুপুরে লাইফ সাপোর্টে দেওয়ার আগে অনুশ্রী অনেক কষ্টে তাকে শুধু বলেছিল, ‘বাবা, আমি বাসায় যাব।’ মেয়েকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কলিজা চলে গেছে। আমার কলিজাকে আমি শত চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারিনি।’
সানা/আপ্র/২১/৯/২০২৬