দুই দিনের সফরে বরিশালে এসে নদী-খাল, ভাসমান পেয়ারা বাজার, ঐতিহাসিক মসজিদ ও নদীবন্দরের ইতিহাস দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে ঝালকাঠির ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারা বাজার ও পেয়ারা বাগান ঘুরে দেখার পর দুপুরে বরিশালের ঐতিহাসিক মিয়াবাড়ি মসজিদ পরিদর্শন করেন তিনি। পরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের আমন্ত্রণে কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদীতে নৌবিহার করেন রাষ্ট্রদূত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
ঢাকা থেকে লঞ্চে বরিশালে আসেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। সফরসঙ্গী ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডিয়ান ডাও। সকালে ঝালকাঠির ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারা বাজারে গিয়ে নৌকায় ঘুরে বাজারের কার্যক্রম দেখেন এবং পেয়ারা বাগান পরিদর্শন করেন। তাঁর এ সফরে স্থানীয় চাষি ও বাগান মালিকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়।
পরে বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুরে ১৮ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক মিয়াবাড়ি মসজিদ পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানেন তিনি।
দুপুরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের আমন্ত্রণে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এমভি এম খান নামের একটি বিলাসবহুল লঞ্চে কীর্তনখোলা ও সুগন্ধা নদীতে প্রায় তিন ঘণ্টা নৌবিহার করেন। নৌযানেই মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তাঁরা। এ সময় বরিশালে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
নৌবিহারের সময় বরিশাল সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলার ভেনিসে এসে আমি সত্যিই মুগ্ধ ও অভিভূত।’ নদী-খাল, নৌকার চলাচল এবং পানির সঙ্গে মানুষের নিবিড় জীবনযাপন বরিশালকে ভিন্ন ধরনের সৌন্দর্য দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভাসমান পেয়ারা বাজারের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, সকালে ভাসমান বাজারে নৌকায় ঘুরেছেন। নদীর ওপর এমন প্রাণবন্ত বাজার তাঁর জন্য অসাধারণ অভিজ্ঞতা। বরিশালের সৌন্দর্য ও মানুষের জীবনযাত্রা তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও তাঁর স্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তাঁদের হাতে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের একটি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
নৌবিহারের সময় রাষ্ট্রদূতকে বরিশাল বন্দরের ইতিহাস সম্পর্কেও অবহিত করা হয়। তাঁকে জানানো হয়, মোগল আমলে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান বরিশাল বন্দরের নাম ছিল ‘গিরি-ই-বন্দর’। সে সময় এ নদীবন্দর দিয়ে লবণ, মসলা ও কাঠের ব্যবসা হতো। পরে ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৬ সালে এটি বরিশাল বন্দরে রূপান্তরিত হয়। ইতিহাস শুনে আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত এবং বন্দরে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন।
নৌবিহারে অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধু এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দেশটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বরিশাল সফরের মধ্য দিয়ে তিনি বরিশালসহ বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বরিশালের গৌরনদীতে একটি ক্যাথলিক চার্চে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আন্তধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর তথ্যমন্ত্রীর গ্রামের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর বরিশাল ত্যাগ করার কথা রয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের।
সানা/আপ্র/৯/৮/২০২৬