কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই দেশটির বিভিন্ন স্থানে দুটি বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। কট্টর ডানপন্থী এই নেতা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।
গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে শপথ নেন এসপ্রিয়েলা। প্রথম ভাষণেই তিনি ‘কোনো আপস ছাড়াই মাদক-সন্ত্রাস দমন’ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেন। এর এক দিনের মাথায় শনিবার দেশটির দুটি পৃথক এলাকায় বোমা হামলা হয়।
কলম্বিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ক্যালির কাছে একটি মহাসড়কের নির্মাণাধীন টোল বুথ বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দুজন নিরাপত্তাকর্মী সামান্য আহত হন। সান্তান্দের দে কিলিচাও পৌরসভার মধ্য দিয়ে যাওয়া প্যান-আমেরিকান মহাসড়কের ওই এলাকায় ইভান মোরোদিসকোর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা সক্রিয়।
ইভান মোরোদিসকো কলম্বিয়ার অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড গেরিলা কমান্ডার। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের একটি অংশ ২০১৬ সালে ফার্ক ও কলম্বিয়া সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা বলেন, দেশের অবকাঠামোর ওপর হামলা মানে দেশের অগ্রগতির ওপর হামলা। দায়ীদের কোনো আশ্রয় বা ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে উত্তরাঞ্চলীয় সেসার প্রদেশে একই দিন ভোরে আরো ভয়াবহ হামলা হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন ব্যবহার করে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালানো হলে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এ ঘটনায় এখনো কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, হামলার সঙ্গে জড়িত কেউই শাস্তি এড়াতে পারবে না।
প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসা এসপ্রিয়েলা তাঁর কঠোর নিরাপত্তানীতির জন্য পরিচিত। তিনি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলের প্রশংসা করেন। বুকেলের অনুসরণে বড় আকারের কারাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তায় কলম্বিয়ায় সক্রিয় গেরিলা গোষ্ঠী ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা আরো জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট।
কলম্বিয়ায় ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় এক দশক পরও বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নমতাবলম্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এসব গোষ্ঠী দেশটির মাদক পাচার ও কোকেন উৎপাদনের একটি বড় অংশের সঙ্গে জড়িত। ফলে দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাত নতুন করে নিরাপত্তা সংকটের রূপ নিয়েছে।
হামলার পর ক্যালির কাছে টোল বুথের আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসকর্মী রবার্তো সান্দোভাল বলেন, হামলার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
৬৮ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা সোনিয়া জাপাতার বাড়ির জানালার কাচ বিস্ফোরণের ধাক্কায় ভেঙে তাঁর বিছানার ওপর ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, হামলার পর তিনি খুবই আতঙ্কিত ও ভীত হয়ে পড়েছেন।
নতুন প্রেসিডেন্টের কঠোর নিরাপত্তানীতি ঘোষণার পরপরই এই হামলা কলম্বিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র সংঘাত ও মাদকবিরোধী লড়াইকে আরো কঠিন করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: এএফপি
সানা/ডিসি/আপ্র/৯/৮/২০২৬