সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের পর এবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই মিশনে দলের শক্তি বাড়াতে ইংল্যান্ড থেকে ছুটে এসেছেন প্রবাসী ফুটবলার অ্যাডাম আব্বাস। যশোরের শামস-উল-হুদা একাডেমিতে গত (শনিবার) থেকে বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়ে অনুশীলনও শুরু করেছেন তিনি।
রোববার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই তরুণ ফরোয়ার্ড জানালেন লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠ মাতানোর স্বপ্নের কথা।
বাংলাদেশী ভক্তদের ভালোবাসায় মুগ্ধ ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। নিজের শেকড়ের টানে ছুটে আসার অনুভূতি ব্যক্ত করে অ্যাডাম বলেন, ‘আমি এই ভালোবাসার কদর করি।
আমি জানি বাংলাদেশি ভক্তদের কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা পাওয়া যায়, তারা সত্যিই দারুণ এক সমর্থক গোষ্ঠী। বাংলাদেশের হয়ে খেলা এবং বাংলাদেশের জন্য নির্বাচিত হওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের।
অবশ্যই এটি আমার মায়ের দেশ, তাই পরিবারের সবাই খুব গর্বিত। আমি মাঠে নেমে ফুটবল খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’ ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক ফুটবলে খেলে আসা অ্যাডাম কীভাবে বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মূলত নিজের আগ্রহ থেকেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন তিনি।
অ্যাডাম বলেন, ‘আমি জানতে পারি যে বাংলাদেশের একটি দল আছে। আমি হামজা চৌধুরী এবং জাতীয় দলে খেলা আমার বয়সী আরও কয়েকজন খেলোয়াড় সম্পর্কে জানতাম। তারপর কোনো একটি পেজের মাধ্যমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং সেখান থেকেই সব শুরু হয়। তবে আমার মূল লক্ষ্য হলো শান্ত থেকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়া এবং নিজের ফুটবলটা খেলে যাওয়া।’ এ সময় তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ দলে তার প্রিয় খেলোয়াড় হামজা চৌধুরী।
যশোরে প্রথম দিনের অনুশীলন দারুণ উপভোগ করেছেন এই প্রবাসী ফুটবলার। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে দলের সবার মানসিকতায় মুগ্ধ তিনি। দলের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘দলের সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। আমি এখানে কেবল দুই-একদিন হলো এসেছি, কিন্তু ইতোমধ্যেই বুঝতে পারছি দলের মানসিকতা কতটা ইতিবাচক। আজ আমার প্রথম সেশন ছিল এবং এটি খুব ভালো কেটেছে। ট্রেনিংয়ের সব আয়োজন দারুণ ছিল।’
কোচ জেরার্ডের দর্শনের কথাও তুলে ধরেন অ্যাডাম, ‘জেরার্ড চমৎকার কিছু ড্রিল করিয়েছেন। তার একটা কথা আছে, প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি দৌড়াও, বেশি পরিশ্রম করো, ভালো খেলো, বেশি গোল করো এবং ভালো ডিফেন্স করো। সব পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করাই আমাদের লক্ষ্য।’ সামনেই এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব।
এই টুর্নামেন্ট ঘিরে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে অ্যাডাম বলেন, ‘এএফসি টুর্নামেন্টে আমাদের সাধ্যমতো সেরাটা দেওয়া, ভক্তদের মুখে হাসি ফোটানো, দেশের জন্য খেলে সবাইকে গর্বিত করা এবং অবশ্যই মূল পর্বে কোয়ালিফাই করা; এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এখানে জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দল মিলিয়ে অনেক ভালো তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে।
আমরা যদি একতাবদ্ধ থাকি, কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাই, তবে ছোটখাটো যেকোনো ধাক্কা সামলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।’
ডিসি/আপ্র/০৯/০৮/২০২৬