গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

মেনু

দেড় দশক পর অবকাশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৮ পিএম, ১৬ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২২:৩৭ এএম ২০২৬
দেড় দশক পর অবকাশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -ফাইল ছবি

দেশের অন্যান্য আদালতের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও চালু হলো নির্ধারিত অবকাশ। এ লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধি সংশোধন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পর এই প্রথম অবকাশে যাচ্ছে বিশেষ এ আদালত। প্রথম দফায় আগামী ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত অবকাশ থাকবে।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ে ট্রাইব্যুনালের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে রুটিন ও জরুরি কার্যক্রম চলবে।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের যাত্রা শুরু হলেও এতদিন এ আদালতে অন্য আদালতের মতো অবকাশের বিধান ছিল না। সম্প্রতি কার্যবিধি সংশোধনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

গত ১৭ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কার্যবিধি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত কার্যবিধিতে ৫৯(এ) ধারা সংযোজন করে অবকাশের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই এবং ১৭ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল ও এর রেজিস্ট্রি অবকাশ পালন করবে। তবে অবকাশকালেও চেয়ারম্যান অথবা অন্তত একজন সদস্যের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দায়িত্ব পালনকারী চেয়ারম্যান বা সদস্য পরে বছরের অন্য সময়ে সমপরিমাণ অবকাশ ভোগ করতে পারবেন।

সংশোধিত কার্যবিধিতে আরো বলা হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষমতা থাকবে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা রেজিস্ট্রারের হাতে। এ ছাড়া নির্ধারিত অবকাশের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের জন্য প্রযোজ্য অন্যান্য ছুটি ও সরকারি অবকাশও ভোগ করতে পারবেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।

প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারি ও ব্যক্তিগত ছুটি ছাড়া এ ধরনের অবকাশের কোনো বিধান ছিল না। নতুন এ ব্যবস্থার ফলে জরুরি কার্যক্রম, যেমন গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ বা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ অব্যাহত থাকবে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ (আইন), ১৯৭৩-এর আওতায় ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। পরে ২০১২ সালের ২২ মার্চ দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

এ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ৪৪টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ১১টি মামলার রায় হয়েছে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যাঁদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন শীর্ষ নেতা।

২০১৫ সালের শেষ দিকে ট্রাইব্যুনাল-২ অকার্যকর হয়ে গেলেও ট্রাইব্যুনাল-১-এর কার্যক্রম চলতে থাকে।

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও এ ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ট্রাইব্যুনাল-১ পুনর্গঠন করা হয় এবং বিচারিক কার্যক্রম জোরদার করতে গত বছরের ৮ মে ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়।

বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত চারটি মামলার রায়ে এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৪৩ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং একজন পেয়েছেন ক্ষমা।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৬/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের
১৬ জুন ২০২৬

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ...

আত্মসমর্পণ করলেন আমির হামজা
১৪ জুন ২০২৬

আত্মসমর্পণ করলেন আমির হামজা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমু...

আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন আমির হামজা
১৪ জুন ২০২৬

আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন আমির হামজা

মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন। রোব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই