ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে শিক্ষার্থী বিক্ষোভে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগের ঘটনায় এবার সংযম ও ক্ষমার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তরুণীর একটি ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি নিজের আচরণের জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, গালিগালাজ বা অপমান কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। তিনি সমাজের প্রতি আহ্বান জানান, যারা ভুল পথে চলে গেছে তাদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা উচিত।
ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, যন্তর মন্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনা দেশের মানুষ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, “আমাকে অপমান করা হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও অপমান করা হয়েছে। কিন্তু রাগ বা প্রতিশোধ কোনো সমাধান নয়।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ বয়সে ভুল হতে পারে এবং সেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত। তাঁর মতে, সমাজে ক্ষোভ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে এখন দায়িত্ব হলো ভুল করা তরুণদের কাছে টেনে নেওয়া এবং সঠিক পথ দেখানো।
তিনি বলেন, “তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতে নিয়ে যাওয়া বা হয়রানি করা পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আনবে না। যারা পথ হারিয়েছে, তাদের পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব।”
মোদি আরো বলেন, তিনি অভিযুক্তদের ক্ষমা করতে চান এবং সমাজের কাছেও একই ধরনের মানসিকতা প্রত্যাশা করেন।
তিনি বলেন, “আমি তাদের ক্ষমা করতে চাই। সমাজকেও অনুরোধ করব, আমার কথা মেনে নেওয়ার জন্য। গালিগালাজে কখনো কোনো ফল পাওয়া যায় না। আসুন, যারা পথ হারিয়েছে তাদের পথ দেখাই।”
ক্ষমা চাইলেন অভিযুক্ত তরুণী: প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোদিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে অভিযুক্ত এক তরুণীর ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
ভিডিওতে ডোরাকাটা টি-শার্ট পরা ওই তরুণীকে দুই হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, অন্যদের প্রভাবে পড়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন।
ভিডিওতে ওই তরুণী বলেন, “আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। আমি যা করেছি, তা ক্ষমার অযোগ্য। আমি অনেক খারাপ কথা বলেছি। আমি পুরো দেশের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি খুব লজ্জিত।”
তিনি আরো বলেন, এটি তাঁর জীবনের প্রথম ও শেষ ভুল এবং সবাই যেন তাঁকে ক্ষমা করেন।
তবে পুলিশের নথিতে ওই তরুণীর বয়স ২৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে: প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে গত ২৩ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। সেখানে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আয়োজিত বিক্ষোভে ওই তরুণী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় নয়ডার একটি থানায় মামলা করা হয়। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, জনমনে অসন্তোষ তৈরি ও মানহানিসংক্রান্ত ধারায় মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে।
তবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ভাষা আপত্তিকর হয়ে থাকলেও শুধু বক্তব্যের কারণে কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, “কোনো অপমানজনক বা মানহানিকর বক্তব্য থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেওয়ানি বা ফৌজদারি মানহানির আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু প্রতিবাদকারীদের দমনে পুলিশি ব্যবস্থা গ্রহণ সমর্থনযোগ্য নয়।” তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
সানা/আপ্র/০১/৮/২০২৬