দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে বজ্রমেঘ ও বায়ুচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি লাগাতার বজ্রপাতে পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। গত দুই দিনে জেলার কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩৫টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, এতো সংখ্যক গরুর মৃত্যু আগে ঘটেনি।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উপকূলীয় খামারিরা। অনেকেই আসন্ন ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য গরু প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বজ্রপাতে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। অনেক খামারি গরু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বজ্রাঘাতে এসব গরুর মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৩ জন কৃষকের ২৯টি গরুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে আরও অনেক কৃষক এখনো তথ্য জানাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে, ফলে মৃত গরুর সংখ্যা অন্তত ৩৫টিতে পৌঁছেছে।
কৃষক ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, মহিপুর সদর, লতিফপুর, ইউসুফপুর, মনোহরপুর, ধুলাসার, বালিয়াতলী ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ২৩ জন কৃষকের ২৯টি গরু বজ্রপাতে মারা গেছে। এসব গরুর অধিকাংশই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লালন-পালন করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপাড়ায় বুধবার দুপুরে বেল্লাল হোসেনের তিনটি গরু মারা যায়। আরও দুই কৃষকের তিনটি গরু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা আনুষ্ঠানিক তালিকায় এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
বালিয়াতলী ইউনিয়নের রিফিউজিপাড়ার কৃষক ফেরদৌস দফাদার জানান, বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে তার গাভি ও দুই মাস বয়সী বাছুর মাঠেই মারা যায়। কয়েক দিন আগেই ক্রেতারা বাছুরসহ গাভিটির দাম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বলেছিলেন। ধুলাসার ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, বজ্রপাতে তার দুটি গাভির মৃত্যু হয়েছে, যার বাজারমূল্য লাখ টাকার বেশি।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত ২৩ জন কৃষকের ২৯টি গরুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারিভাবে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও ঢেউটিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঠিক তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
সানা/আপ্র/৩০/৪/২০২৬