যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের একটি বন্য প্রাণী সেবাকেন্দ্রে বিরল দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপছানার পরিচর্যা চলছে। ‘ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন’ প্রজাতির এই কচ্ছপছানাটি জন্মগত ত্রুটির কারণে দুটি মাথা নিয়ে জন্মেছে। বিরল এই প্রাণীর জন্ম বন্য প্রাণী গবেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
ম্যাসাচুসেটসের বার্নস্টেবলে অবস্থিত কেপ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কচ্ছপটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কেন্দ্রটি জানায়, ‘মাস অডুবন ওয়েলফ্লিট বে ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংকচুয়ারি’ নামের স্থানীয় একটি বন্য প্রাণী সংরক্ষণাগার কর্তৃপক্ষ দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপটিকে তাদের কাছে নিয়ে আসে। বন্য প্রাণী কর্মীরা ওয়েলফ্লিটের বিশেষভাবে সুরক্ষিত ও সংরক্ষিত প্রজননক্ষেত্র থেকে কচ্ছপছানাটিকে উদ্ধার করেন।
বন্য প্রাণী কেন্দ্রের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাইসেফালি নামের অত্যন্ত বিরল জন্মগত ও জিনগত ত্রুটির কারণে কচ্ছপটি দুটি মাথা নিয়ে জন্মেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভ্রূণ গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে অভিন্ন যমজ পুরোপুরি আলাদা হতে না পারলে এ ধরনের শারীরিক অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।
কেন্দ্রের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অভিজ্ঞ পশুচিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল কচ্ছপছানাটিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রেডিওগ্রাফি ও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে এর দুটি মাথা এবং শরীর কীভাবে কাজ করছে, তা বোঝার চেষ্টা চলছে।
বন্য প্রাণী কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, গত পাঁচ বছরে তাঁরা এ ধরনের মাত্র দুটি কচ্ছপ দেখেছেন। ফলে নতুন এই কচ্ছপছানাটি প্রাণীর শারীরিক গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম সম্পর্কে আরো জানার একটি বিরল সুযোগ তৈরি করেছে।
কেন্দ্রটি জানিয়েছে, আপাতত কচ্ছপটির খাবারের প্রতি আগ্রহ, বেড়ে ওঠা ও আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুই মাথার এই কচ্ছপছানা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে কি না, তা সময়ের সঙ্গে আরো পরিষ্কার হবে।
বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণীর দেহ গঠনের সময় অস্বাভাবিকতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দুই মাথাওয়ালা প্রাণীর বেঁচে থাকা ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা অনেকটাই নির্ভর করে তাদের শারীরিক গঠন এবং দুটি মাথা কতটা সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে পারছে তার ওপর। তথ্যসূত্র: ইউপিআই
সানা/ডিসি/আপ্র/৩/১০/২০২৬