যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ডাবলিনে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের প্রকৌশল নির্বাহী জোনাথন ম্যাককিনসিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সের গাড়ি পার্কিং এলাকায় তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
৪০ বছর বয়সী জোনাথন ম্যাককিনসি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের প্রকৌশল পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। নিউইয়র্ক টাইমস তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বেলা ৩টার পর ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডসের কাছে টহলরত এক সার্জেন্ট পার্কিং এলাকায় জোনাথনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। একই সময়ে একাধিক ব্যক্তি গুলির ঘটনা জানিয়ে জরুরি নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ তাঁকে একাধিক গুলির আঘাতসহ উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় ঘটনাস্থলের কাছ থেকেই জোনাথনের শ্বশুর শৌইয়ং ঝাং ও শাশুড়ি শিলি চেনকে আটক করা হয়। দুজনের বয়সই ৭৭ বছর। তাঁরা ডাবলিনের বাসিন্দা এবং জোনাথনের স্ত্রীর মা-বাবা। পরে তাঁদের সান্তা রিটা কারাগারে নেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযোগের মধ্যে প্রথম মাত্রার হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, চরম অবহেলার সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া এবং শিশুকে বিপদের মধ্যে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। বুধবার তাঁদের আদালতে হাজির করার কথা। তাঁদের আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তাঁরা পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জোনাথনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, সন্দেহভাজন দুজনকে ঘটনার পরও ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দেখা যায়। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আর কোনো সন্দেহভাজনকে খোঁজা হচ্ছে না এবং জননিরাপত্তার জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ বা উদ্দেশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তবে আদালতের নথিতে জোনাথন ও তাঁর স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের মধ্যে চলমান বিবাহবিচ্ছেদ, সন্তানদের হেফাজত এবং পারিবারিক বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১২ সাল থেকে তাঁদের বিয়ে ছিল এবং তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে। জোনাথন ২০২৫ সালের শেষ দিকে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মামলায় সন্তানদের হেফাজতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আইনি বিরোধ চলছিল এবং হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক সপ্তাহ পর এ-সংক্রান্ত শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল।
আদালতের নথিতে এর আগে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা-সংক্রান্ত সুরক্ষা আদেশের আবেদন এবং জোনাথনের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন ও শিশুকে বিপদের মধ্যে ফেলার অভিযোগের তথ্যও রয়েছে। তবে এসব আইনি বিরোধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি।
হত্যাকাণ্ডের পর ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের নামে থাকা ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখছেন।
সানা/আপ্র/২৯/৯/২০২৬