গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

এআইয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে ১০ লাখ চাকরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:১৪ পিএম, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:২২ এএম ২০২৬
এআইয়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হচ্ছে ১০ লাখ চাকরি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে—এমন আশঙ্কা দীর্ঘদিনের। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত এআইয়ের প্রভাব শুধু চাকরি কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর বিস্তার নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করছে।

দ্য ইকোনমিস্টের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এআই–সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ নতুন পেশাজীবী চাকরি তৈরি হয়েছে। বিপরীতে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এআইয়ের কারণে প্রায় দুই লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। অর্থাৎ, এআইয়ের কারণে হারানো চাকরির তুলনায় নতুন তৈরি হওয়া চাকরির সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।

গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। ওই সময়ে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

তরুণদের শ্রমবাজারেও এখন পর্যন্ত এআইয়ের কারণে বড় ধরনের ধাক্কার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের বেকারত্বের হার এবং সামগ্রিক বেকারত্বের হারের ব্যবধান কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম কম পর্যায়ে রয়েছে।

ডেটা সেন্টার ঘিরে বড় কর্মসংস্থান

এআইয়ের বিস্তারের সবচেয়ে বড় সুফলগুলোর একটি দেখা যাচ্ছে অবকাঠামো খাতে। এআই চালাতে বিপুলসংখ্যক চিপ, সার্ভার, ডেটা সেন্টার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো প্রয়োজন হচ্ছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, ২০২২ সালের তুলনায় এআই পরিচালনার প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় হচ্ছে। শুধু ডেটা সেন্টার নির্মাণেই বছরে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হচ্ছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

এ কারণে ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও পরিচালনায় বিপুল কর্মীর চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ইলেকট্রিশিয়ান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য এইচভিএসি বিশেষজ্ঞ এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের জন্য প্রকৌশলীর প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি সার্ভার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণেও তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান।

দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেটা সেন্টার নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি প্রধান শিল্পে ২০২৩ সালের পর প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার অতিরিক্ত কর্মসংস্থান হয়েছে। অন্যান্য নির্মাণ ও উৎপাদন খাতের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে এই অতিরিক্ত কর্মসংস্থান পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না।

চাকরির ওয়েবসাইট ইনডিডের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে ডেটা সেন্টার–সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তি দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। লিংকডইনের হিসাবেও ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় পাঁচ লাখ ডেটা সেন্টার–সংশ্লিষ্ট চাকরি তৈরি হয়েছে।

বাড়ছে বেতনও

ডেটা সেন্টার ঘিরে কর্মীর চাহিদা বাড়ায় এসব চাকরির বেতনও বাড়ছে। ইনডিডের হিসাবে, ডেটা সেন্টারে স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের বিজ্ঞাপনে দেওয়া বেতন একই ধরনের অন্যান্য কাজের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যেও বেতন বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। জুন পর্যন্ত এক বছরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে ঘণ্টাপ্রতি গড় আয় ১৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি খাতে বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ।

অর্থাৎ, এআই অবকাঠামোর বিস্তার শুধু নতুন চাকরিই তৈরি করছে না, কিছু পেশায় কর্মীদের দর-কষাকষির ক্ষমতাও বাড়াচ্ছে।

তৈরি হচ্ছে নতুন পেশাজীবী চাকরি

এআইয়ের কারণে শুধু নির্মাণ, বিদ্যুৎ বা যন্ত্রপাতি খাতেই চাকরি বাড়ছে না; তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের পেশাজীবী চাকরিও।

এআই মডেল তৈরির জন্য প্রয়োজন হচ্ছে প্রকৌশলী। তথ্যভান্ডার প্রস্তুত ও শ্রেণিবিন্যাসের কাজে প্রয়োজন হচ্ছে ডেটা অ্যানোটেটর। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী এআই প্রযুক্তি কাজে লাগাতে তৈরি হচ্ছে ‘ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়ড’ প্রকৌশলীর মতো নতুন পদ। অনেক প্রতিষ্ঠানেই তৈরি হচ্ছে এআই বিভাগের প্রধানের পদ।

লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সময়ের তুলনায় এআই বিভাগের প্রধান, এআই প্রকৌশলী এবং এআই পরিচালক পদে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্যাড লেভাননের গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পেশাজীবী চাকরির প্রায় ১ শতাংশ এখন এআই–সংশ্লিষ্ট। সংখ্যার হিসাবে এ ধরনের পদ প্রায় ১০ লাখ।

কম্পিউটার ও জীবনবিজ্ঞান–সম্পর্কিত পেশায় এআই–নির্ভর চাকরির অংশ আরো বেশি—প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

লিংকডইনের আরেক বিশ্লেষণেও ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার নতুন এআই–নির্দিষ্ট চাকরি তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে।

উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েও কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে এআই

এআইয়ের আরেকটি প্রভাব হলো কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। একজন আইনজীবী এআই ব্যবহার করে দ্রুত চুক্তির খসড়া তৈরি করতে পারেন। একজন আর্থিক বিশ্লেষক কয়েক মিনিটেই বিপুলসংখ্যক নথি বিশ্লেষণ করতে পারেন।

এর ফলে কোনো কাজ সম্পন্ন করতে কম সময় লাগলেও সেবার খরচ কমতে পারে। খরচ কমলে সেবার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তখন প্রতিষ্ঠানে সামগ্রিক কাজের পরিমাণও বাড়তে পারে।

এ কারণে এআইয়ের ঝুঁকিতে থাকা বলে বিবেচিত কিছু পেশাতেও কর্মসংস্থান বেড়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্যারালিগ্যালদের কর্মসংস্থান প্রায় ১১ শতাংশ এবং বাজার গবেষণা বিশ্লেষকদের চাকরি প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে জাতীয়ভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

কিছু চাকরি সত্যিই হারাচ্ছেন মানুষ

তবে এআইয়ের প্রভাব পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। কিছু রুটিন ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের পেশায় এরই মধ্যে কর্মসংস্থান কমছে।

২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কাস্টমার সার্ভিস কর্মীদের চাকরি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে সচিব ও প্রশাসনিক সহকারীদের চাকরি কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

এ ধরনের কাজের বড় অংশ নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক হওয়ায় এআই এজেন্টের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে এসব পেশা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তাসংক্রান্ত পেশায় প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার চাকরি কমতে পারে।

সামনে কী হতে পারে

এআই শেষ পর্যন্ত মানুষের চাকরি কমাবে, নাকি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো বাড়াবে—এর চূড়ান্ত উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের তথ্য বলছে, এআই চাকরি বিলুপ্ত করার পাশাপাশি বড় পরিসরে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি করছে।

কম্পিউটার যুগের আগে অস্তিত্ব ছিল না—এমন কম্পিউটার–সংশ্লিষ্ট পেশায় এখন যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করেন। গিগ অর্থনীতি, ই–কমার্স ও কনটেন্ট তৈরির মতো নতুন শিল্পেও কাজ করছেন আরো প্রায় ৮০ লাখ মানুষ।

ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টের দল পরিচালনা করবেন। কেউ কেউ এআই এজেন্টদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার মতো নতুন দায়িত্বও পালন করতে পারেন।

আজকের দিনে এসব ধারণা অদ্ভুত মনে হলেও এক-দুই দশক আগেও ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ পেশার এমন বিস্তার কল্পনা করা কঠিন ছিল। এআইয়ের ক্ষেত্রেও নতুন ধরনের পেশা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা বাড়বে, তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

এসি/আপ্র/০৮/০৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

নিজেদের দাবি জানাতে সড়কে নেমে পড়লো রোবটের দল
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজেদের দাবি জানাতে সড়কে নেমে পড়লো রোবটের দল

পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে এবার দেখা গেল এক অভিনব প্রতিবাদ। পতাকা নাড়তে নাড়তে সড়কে স্লোগান দিতে ও ব...

দুর্গার ছবিতে ১১ হাত, ক্ষমা চাইলেন শুভেন্দু
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গার ছবিতে ১১ হাত, ক্ষমা চাইলেন শুভেন্দু

দেবী দুর্গার ১০ হাতের বদলে ১১ হাত দেখিয়ে সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশের ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ম...

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দাগামী একটি গাড়ি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চালকসহ চার বাংলাদেশি প্...

ইরানের বিরুদ্ধে জয় হলে তেলের দাম দ্রুত কমবে: ট্রাম্প
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে জয় হলে তেলের দাম দ্রুত কমবে: ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জয় হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ও বড় আকারে কমে যাবে বলে দাবি করেছে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার খাবারের দাওয়াত পেলেন বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুপুরের খাবারের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা—এমন ব্যয়ের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে সেই খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কার্যপ্রণালিবিধির ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রধান দুই দলের প্রধানদের এমন আচরণের ইতিবাচক প্রভাব দেশের রাজনীতিতে পড়বে ?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 16 ঘন্টা আগে