অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডের সংঘাতকবলিত দক্ষিণাঞ্চলে একযোগে ৫০টির বেশি স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে দক্ষিণাঞ্চলে সমন্বিত অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা স্থানীয় সরকারি ভবন, দোকান, টেলিযোগাযোগ টাওয়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেন। একটি চুরি করা গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়।
থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়।
সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে নারাথিওয়াত প্রদেশে। পাশের ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশেও বেশ কয়েকটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারাথিওয়াতের মুয়াং জেলায় বোমা বিস্ফোরণে দুই নারী আহত হয়েছেন।
কয়েকটি স্থানে টেলিযোগাযোগ টাওয়ারেও আগুন দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো বস্তুতে হাত না দেওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নারাথিওয়াতে রাতভর কারফিউ জারি করা হলেও রোববার সকালে তা প্রত্যাহার করা হয়। রোববার নতুন করে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
সমন্বিত এসব হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বিদ্রোহ চলছে। ২০০৪ সাল থেকে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বিদ্রোহীদের তৎপরতায় বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু হলেও থাইল্যান্ডে সরকার পরিবর্তন এবং বিদ্রোহীদের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে প্রক্রিয়াটি বারবার থমকে গেছে।
গত জুলাইয়ে নারাথিওয়াতের একটি তল্লাশি চৌকিতে বন্দুক ও বোমা হামলায় পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হন। ওই হামলার পর নির্ধারিত শান্তি আলোচনা স্থগিত করতে বাধ্য হয় থাই কর্তৃপক্ষ।
থাই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বিদ্রোহীরা প্রায়ই নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অনেক সময় ওই অঞ্চলে সরকারি কর্মকর্তাদের সফরের আগেও হামলার ঘটনা ঘটে।
বিনিয়োগ প্রকল্প, বন্যা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের আগামী সপ্তাহে দক্ষিণাঞ্চলীয় সোংখলা প্রদেশের হাত ইয়াই শহরে দুই দিনের সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
সানা/আপ্র/২৪/৮/২০২৬