চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কারখানার তালা ভেঙে ভেতরে থাকা কোটি টাকার যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য বাইরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খোলা আকাশের নিচে পড়ে বৃষ্টি ও বাতাসে এসব মালামাল নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ এলাকার এক ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে কারখানার ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৮১ টাকা ক্ষতির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রেজাউল করিম (৩৯)। গত ২০ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ সি.আর. মামলা নম্বর ২৫৭/২০২৬ (আকবরশাহ) দায়ের করেন তিনি। মামলায় উত্তর কাট্টলী এলাকার মো. সালমানুর রহমান ইফরান (৪০)কে আসামি করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই আসামির কাছ থেকে তিন বছরের জন্য একটি খালি শেড ভাড়া নেন রেজাউল করিম। অগ্রিম ও জামানত বাবদ ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করে সেখানে ৬ ফিট লাইন কবজা তৈরির কারখানা চালু করেন তিনি। মামলার সময়ও ওই ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ কার্যকর ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
চুক্তির ৯ নম্বর শর্ত অনুযায়ী, চুক্তিতে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তিন মাসের লিখিত নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বাদীর অভিযোগ, ওই শর্ত অনুসরণ না করে গত ১৭ জুলাই সকালে আসামি কারখানার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে কারখানায় থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল বাইরে ফেলে দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাইরে ফেলে দেওয়া মালামালের মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ভারী যন্ত্রপাতি, ৭৩ লাখ টাকার কাঁচামাল এবং ৩৬ লাখ টাকার তৈরি পণ্য ছিল। খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় বৃষ্টি ও বাতাসে যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরে এবং পণ্য ও কাঁচামালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া কারখানার ক্যাশ বাক্স ভেঙে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৮১ টাকা নগদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন বাদী। সব মিলিয়ে যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, তৈরি পণ্য ও নগদ অর্থসহ ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫৮১ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, ঘটনার পর রেজাউল করিম লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু এতে সমস্যার সমাধান না হয়ে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়। গত ১৬ আগস্ট ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে আসামি তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি আকবরশাহ থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তাঁকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে তিনি দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮০, ৪২৭, ৪৪৭ ও ৫০৬(২) ধারায় মামলা করেন।
এদিকে মামলায় অভিযুক্ত সালমানুর রহমান ইফরানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২৪/৮/২০২৬