আশীর্বাদ রহমান: কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি খাবার সরবরাহেও সংকট দেখা দিয়েছে। গত ২২ আগস্ট হাসপাতালটিতে ৫১৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। অথচ সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী প্রতিদিন খাবার সরবরাহ করা হয় ২৫০ জন রোগীর জন্য।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের ভর্তি করা হয়। ফলে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকছেন। এতে চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি খাবার সরবরাহেও তৈরি হয়েছে সংকট।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২৫০ শয্যার বিপরীতে ৫১৫ জন রোগী ভর্তি থাকায় নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত ২৬৫ জনের খাবারের প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীদের জন্য পৃথক খাবারের বরাদ্দ না থাকায় ২৫০ জনের বরাদ্দকৃত খাবারই বেশি সংখ্যক রোগীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন মিলু হাসান বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ও খাবার-দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আরেক রোগীর স্বজন মো. হামেদুল বলেন, হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ছে। কুড়িগ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও প্রায়ই ৫০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু খাবারের বরাদ্দ ২৫০ জনের জন্য। ফলে ২৫০ জনের খাবারই প্রায় ৫০০ রোগীর মধ্যে ভাগ করে দিতে হচ্ছে।
অতিরিক্ত রোগীর জন্য খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জন্য অতিরিক্ত খাবারের বরাদ্দ দেওয়ার নিয়ম নেই।
আরএমও আরো বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে। সেখানে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে কাজ চলছে। গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা পাওয়া গেলে উদ্যোগটি সফল করা সম্ভব। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত হলে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি খাবার ব্যবস্থাপনাতেও উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কুড়িগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, জেলার প্রধান সরকারি হাসপাতালটি দ্রুত ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হোক। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসাসেবা ও খাবার সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট কত দ্রুত সমাধান হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সানা/আপ্র/২৪/৮/২০২৬