গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

সামাজিক মাধ্যমে খবর নিয়ন্ত্রণে ভারতের নতুন প্রস্তাব

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৪৭ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৮:০১ এএম ২০২৬
সামাজিক মাধ্যমে খবর নিয়ন্ত্রণে ভারতের নতুন প্রস্তাব
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ভারতে ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ও রাজনৈতিক মতামত প্রকাশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে নতুন নিয়মের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির সরকার। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, অনলাইনে খবর বা চলমান ঘটনা নিয়ে পোস্ট করেন কিন্তু নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যম নন-এমন ব্যবহারকারীদেরও এখন সংবাদ সংস্থাগুলোর জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালায় এই সংশোধনের প্রস্তাব দেয়। বর্তমানে এই নীতিমালার মাধ্যমেই ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে স্বাধীন সাংবাদিক, পডকাস্টার ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রকাশিত সংবাদধর্মী কনটেন্টের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরো বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সরকার নির্ধারিত নির্দেশনা না মানলে তারা আর ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কনটেন্টের জন্য আইনি দায়মুক্তি পাবে না। এতে প্ল্যাটফর্মগুলো বাধ্য হয়ে দ্রুত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করবে-যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরো কঠোর করে তুলতে পারে।

এ প্রস্তাব ইতোমধ্যে ডিজিটাল অধিকার কর্মী ও স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে প্রায় পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং ভিন্নমত দমনের সুযোগ তৈরি হবে। সমালোচকদের মতে, এই ধরনের নিয়ম প্রয়োগ হলে ব্যবহারকারীরা আত্মনিয়ন্ত্রণ বা স্ব-সেন্সরশিপে বাধ্য হতে পারেন।

ইউটিউবভিত্তিক একটি জনপ্রিয় চ্যানেলের পরিচালক আকাশ ব্যানার্জি বলেন, অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে একাধিক আইন থাকা সত্ত্বেও ভুয়া খবর বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্য কমেনি। বরং সরকারের সমালোচনামূলক কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার প্রবণতা বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যদিও সরকার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, সরকার বলছে-এই সংশোধনের মাধ্যমে ভুয়া খবর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। প্রস্তাবিত নীতিমালা নিয়ে জনমত সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। কিছু ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, আগাম নোটিস ছাড়াই তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে আংশিক প্রতিকার পেলেও অনেক পোস্ট এখনো ব্লক রয়েছে। এসব পোস্টে সরকারের সমালোচনা ছিল বলে তারা দাবি করেছেন।

ডিজিটাল অধিকার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক সংশোধনের মাধ্যমে অনলাইন কনটেন্টের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়েছে। পোস্ট অপসারণের সময়সীমা কমিয়ে আনা এবং বিভিন্ন সংস্থাকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার ফলে এই নিয়ন্ত্রণ আরো কার্যকর হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কথাও তারা উল্লেখ করেছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন সাধারণ নাগরিকরাও সংবাদ প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন, তাই একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রয়োজন। তবে সমালোচকদের মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, সামাজিক মাধ্যমে খবর ও রাজনৈতিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ভারতের নতুন এই উদ্যোগ একদিকে যেমন তথ্যপ্রবাহের শৃঙ্খলা আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ছাড়াই গ্রুপ কলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ
১৭ অক্টোবর ২০২৬

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ছাড়াই গ্রুপ কলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নেই, এমন ব্যক্তিদেরও এবার গ্রুপ কলে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন অ...

বেশি মেগাপিক্সেল মানেই বেশি ভালো ছবি নয়
১৭ অক্টোবর ২০২৬

বেশি মেগাপিক্সেল মানেই বেশি ভালো ছবি নয়

স্মার্টফোন কেনার সময় অনেকেই ক্যামেরার মেগাপিক্সেলকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। ১০৮ বা ২০০ মেগাপিক্সেলে...

বিকল্প আয়ের পথ খুলতে লিংকডইনের নতুন ফিচার
১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিকল্প আয়ের পথ খুলতে লিংকডইনের নতুন ফিচার

মূল চাকরির পাশাপাশি বিকল্প পেশা, ব্যক্তিগত উদ্যোগ কিংবা নিজস্ব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পেশাগত...

এক বছরে স্মার্টফোনের বিক্রি ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
১৬ অক্টোবর ২০২৬

এক বছরে স্মার্টফোনের বিক্রি ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

মেমোরি চিপের সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য সেমিকন্ডাক্টরের বাড়তি চাহিদা এবং স্মার্টফোনের...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে