: বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বড় রকেট হিসেবে পরিচিত নতুন প্রজন্মের স্টারশিপ রকেট এ সপ্তাহেই পরীক্ষামূলকভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেসএক্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি স্পেসএক্সের আগের সব সংস্করণকে ছাড়িয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রকেটটির আকার লন্ডনের বিগ বেনের এলিজাবেথ টাওয়ারের চেয়েও বড় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ জোড়া লাগানো অবস্থায় স্টারশিপ মহাকাশযান ও এর সুপার হেভি বুস্টারের উচ্চতা ১২৪ মিটারের বেশি এবং ওজন প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন।
নতুন এই রকেটটি স্পেসএক্সের “স্টারশিপ ভার্সন ৩”, যেখানে জ্বালানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, পেলোড বা মালামাল বহনের জায়গা সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং প্রপালশন সিস্টেমে উন্নত “র্যাপ্টর ৩” ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে।
সুপার হেভি বুস্টারে থাকা ৩৩টি র্যাপ্টর ৩ ইঞ্জিন উৎক্ষেপণের সময় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড থ্রাস্ট উৎপন্ন করতে সক্ষম হবে, যা অ্যাপোলো কর্মসূচির স্যাটার্ন ৫ রকেটের শক্তির দ্বিগুণেরও বেশি।
নাসার আর্টেমিস মিশনের অংশ হিসেবে এই রকেট তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের আর্টেমিস ৪ মিশনে এটি ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর আবারো মানুষ চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করতে পারে।
তবে স্টারশিপ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তিগত জটিলতা ও বিলম্বের কারণে নাসা তাদের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি সংশোধন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন কোনো বিলম্ব হলে চাঁদে মানব অভিযান আরো পিছিয়ে যেতে পারে।
একইসঙ্গে স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও এ প্রকল্পের সফলতার ওপর নির্ভর করছে।
এ উৎক্ষেপণটি স্পেসএক্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কারণ কোম্পানিটি আগামী মাসে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। স্টারশিপের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সাফল্য এই বাজার পরিকল্পনার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন সংস্করণে রকেটের দুই অংশ-স্টারশিপ ও সুপার হেভি বুস্টার-আরো দীর্ঘ করা হয়েছে। পাশাপাশি উৎক্ষেপণ স্থলেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন লঞ্চপ্যাডে যান্ত্রিক “চপস্টিকস” ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বুস্টারকে আকাশে থেকে ধরে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
তবে এবারের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে বুস্টার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে না বলে জানিয়েছে স্পেসএক্স। মূল লক্ষ্য হবে নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন অংশের কার্যকারিতা বাস্তব পরিবেশে যাচাই করা।
উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এবং বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে দশটায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। স্পেসএক্সের ওয়েবসাইট, এক্স এবং ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
তবে প্রযুক্তিগত সমস্যা বা আবহাওয়ার কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সানা/আপ্র/২১/৫/২০২৬