গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মেনু

গরু নিষেধাজ্ঞায় চাপে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৪৮ পিএম, ২১ মে ২০২৬ | আপডেট: ০২:০৪ এএম ২০২৬
গরু নিষেধাজ্ঞায় চাপে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি
ছবি

গরু নিষেধাজ্ঞায় চাপে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচার ওপর নতুন বিধিনিষেধ জারি করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে বিজেপি সরকার। ঈদুল আজহার আগে নেওয়া এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রামীণ অঞ্চলের গরুপালক ও খামারিরা, যাঁদের বড় অংশই হিন্দু কৃষক।

গত ১৩ মে বিজেপি সরকার এক নির্দেশিকায় জানায়, সরকারি কয়েকটি দপ্তরের কাছ থেকে গবাদিপশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার সনদ ছাড়া গরু কেনাবেচা করা যাবে না। নতুন এ বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পশুর হাটে লেনদেন কমে গেছে এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সহসভাপতি ইউনুস আলী স্বীকার করেছেন, বিষয়টি দলকে কিছুটা সমস্যায় ফেলেছে। তিনি বলেন, গরুর ব্যবসার সঙ্গে মূলত হিন্দু গোপালক ও কৃষকেরা জড়িত। তাঁরা গরু পালন করেন, দুধ বিক্রি করেন এবং পরে আর্থিক প্রয়োজন বা গবাদিপশুর বয়স বেড়ে গেলে তা বিক্রি করে দেন। সাধারণত মুসলিম ক্রেতারাই সেই গরু কিনে থাকেন।

ইউনুস আলীর মতে, এই বাস্তবতা সঠিকভাবে বিবেচনায় না নেওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঈদুল আজহার আগেই দল পরিস্থিতির সমাধানে উদ্যোগ নেবে।

এদিকে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। দলটির সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সরকার একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে পদক্ষেপ নিতে গিয়ে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিকেই সংকটে ঠেলে দিয়েছে।

মহুয়ার দাবি, পশ্চিমবঙ্গে গরুর ব্যবসার সঙ্গে শুধু মুসলিম নয়, ঘোষ, দাসসহ বহু হিন্দু পরিবারও জড়িত। ফলে এই বিধিনিষেধে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গরিব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ভারত থেকে গরু ও মহিষের মাংস রপ্তানি বাড়ছে এবং এ খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। পাশাপাশি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিজেপির অনুদান গ্রহণের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে বহু গোপালক ও কৃষক নিজেদের দুর্দশার কথা তুলে ধরছেন। অনেক নারী খামারি জানিয়েছেন, বছরের এই সময় গরু বিক্রির অর্থ দিয়েই তাঁরা কৃষিঋণ ও ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন। বিধিনিষেধ বহাল থাকলে তাঁদের সামনে চরম আর্থিক সংকট তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বিজেপি নেতা ইউনুস আলী বলেন, দল বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং শেষ পর্যন্ত এমন কোনো সমাধান আসবে বলে তিনি মনে করেন, যাতে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন। তাঁর ভাষায়, হিন্দু ভোটের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে সরকার একটি জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কাউকে বিপদে ফেলতে চান না বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
সানা/আপ্র/২১/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন শি-পুতিন
২১ মে ২০২৬

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন শি-পুতিন

বেইজিংয়ের গণমহাভবনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আনুষ্ঠানিক বৈঠকশ...

রিয়েলিটি শোতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার একাধিক নারী
২০ মে ২০২৬

রিয়েলিটি শোতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার একাধিক নারী

যুক্তরাজ্যের চ্যানেল ৪-এর অন্যতম জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ম্যারিড অ্যাট ফার্স্ট সাইট ইউকে’ (এমএএফএস ইউ...

আমরা খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে যাচ্ছি: ট্রাম্প
২০ মে ২০২৬

আমরা খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে যাচ্ছি: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা ক...

আফ্রিকার কঙ্গোয় ইবোলায় অন্তত ১১৮ জনের মৃত্যু
২০ মে ২০২৬

আফ্রিকার কঙ্গোয় ইবোলায় অন্তত ১১৮ জনের মৃত্যু

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো-এর পূর্বাঞ্চলে ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে কমপক্ষে ১১৮ জনের...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে