সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে বিচারকদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার সরকারি পদক্ষেপকে আদালত অবমাননা হিসেবে আখ্যা দিয়ে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবী শিশির মনির।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৭ জুনের মধ্যে সরকার আপিল না করে সচিবালয় বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে হাই কোর্টে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করা হবে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ করে এবং সচিবালয়ের কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা চেয়ে সাতজন আইনজীবী ইতিমধ্যে হাই কোর্টে রিট করেছেন, যেখানে শিশির মনির তাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে লড়ছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিলুপ্ত সচিবালয়ের ১৫ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও বিচারককে মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থি।
শিশির মনির দাবি করেন, আদালতের ইচ্ছার প্রতি কোনো শ্রদ্ধা দেখানো হয়নি এবং এটি সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। তিনি জানান, এ বিষয়ে কনটেম্পট নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করা হবে। তিনি আরো জানান, বিষয়টি বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনা হয়েছে এবং আদালত এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের মৌখিক আশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশ ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সচিবালয় ধ্বংস না করা, কিন্তু তা মানা হয়নি। এর আগে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল পাস হয়, যার মাধ্যমে পূর্বে গঠিত স্বতন্ত্র সচিবালয় কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যায়। এর আগে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট এক রায়ে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়ের ভিত্তিতেই পরে অধ্যাদেশ জারি ও সচিবালয় চালু করা হয়। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং ৭ জুন পর্যন্ত অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন হাই কোর্ট। সেই সময়ের মধ্যে সরকার আপিল না করলে নতুন করে রিট শুনানির পথ খুলবে বলে জানান আইনজীবী শিশির মনির।
সানা/আপ্র/২১/৫/২০২৬