দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামে আক্রান্ত ৯৯ শতাংশ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতা দেখা দিলে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় বলে সতর্ক করেছেন তারা।
শুক্রবার (১৫ মে) বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন এবং চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বক্ষব্যাধি ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
লিখিত বক্তব্যে এভারকেয়ার হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। অতীতে সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে এ রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় সংক্রমণ আবার বেড়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত দেশে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন শিশুর মধ্যে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
তিনি আরো বলেন, হামে মৃত্যুর প্রধান কারণ শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া। তাই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা হামের বিস্তার রোধে চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন। এগুলো হলো-অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, উপজেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ফিভার কর্নার চালু করে সংক্রমণ শনাক্ত করা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুসরণ করা এবং দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
চিকিৎসকদের মতে, হাম দ্রুত ছড়ালেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা গেলে অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে অপতথ্য ও দেরিতে চিকিৎসা গ্রহণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
তারা জানান, শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া জটিলতা বেশি দেখা দেয় অপুষ্টি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে। নিউমোনিয়া ফুসফুসের পাশাপাশি মস্তিষ্কসহ অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসকরা আরো বলেন, দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা শুরুতে দেরি হলে এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
তাদের মতে, গবেষণায় দেখা গেছে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার হার তুলনামূলক কম হলেও গুরুতর জটিলতা তৈরি হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া বা উচ্চ জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে আনতে দেরি হলে জটিলতা বাড়ে। হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাই দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আসিফ মুজতাবা মাহমুদ, চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া, এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
সানা/আপ্র/১৫/৫/২০২৬