চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্সের সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশা নিধনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধন করা হয়েছে। তবে ফগিংয়ে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে, যা টাস্কফোর্সের সভায় আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক হলেও সাধারণ মানুষেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।
পরিত্যক্ত টায়ার, কমোড, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি। এসব জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা তৈরি হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এবার দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে পিরোজপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। শহরাঞ্চলের বাইরে পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার বিষয়টিকে কিছুটা অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পিরোজপুরে প্রচুর নারকেল ও সুপারি গাছ রয়েছে। এসব গাছ কাটার পর গোড়ার অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। সেই জমে থাকা পানিতেই এডিস মশার লার্ভা তৈরি হয়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে।
মীর শাহে আলম বলেন, জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে গত বছরের তুলনায় সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রায় অর্ধেক বলে দাবি করেন তিনি।
এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৬