গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:১৭ পিএম, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০১:২৭ এএম ২০২৬
স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না। গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়; এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুমের মাধ্যমে শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেওয়া হয় না, তার সঙ্গে একটি পরিবারের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্তিত্বও কেড়ে নেওয়া হয়। এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে এসব মৌলিক অধিকার একসঙ্গে লঙ্ঘিত হয়।

গত দেড় দশকের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই সময়ে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ পরিস্থিতি দেশের ওপর চেপে বসেছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গুম ও গোপনে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন, ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অনেকের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা ও বেদনার মধ্যে প্রিয়জনের অপেক্ষায় ছিলেন। কেউ কেউ ফিরে এলেও অনেকে এখনো নিখোঁজ।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে গুম ও গোপনে হত্যার যে চিত্র তদন্তে উঠে এসেছে, তা রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে এসব বর্বরতার ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট করে।

রাষ্ট্রপতি জানান, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো যে আর্থিক সংকট, মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে, তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র হবে যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং নাগরিকরা কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করছে, সেটিই প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের মানদণ্ড।

সবশেষে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

তিনি আরো বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা যত বড় ক্ষমতাবানই হোক, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ বন্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেফতার
২১ অক্টোবর ২০২৬

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক গ্রেফতার

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহ...

সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৯৬৩ শিশুর
২১ অক্টোবর ২০২৬

সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭,৯৬৩ শিশুর

দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ...

দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপকূলে বিশেষ নিরাপত্তা, মোতায়েন ৩৫০০ কোস্ট গার্ড
২১ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপকূলে বিশেষ নিরাপত্তা, মোতায়েন ৩৫০০ কোস্ট গার্ড

শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে উপকূলীয় এলাকার ১৪৪টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৩ হাজার ৫০০ সদস্য মোত...

বিসর্জনের সুরে বিদায়বেলা, বিষাদে ভারী পূজামণ্ডপ
২১ অক্টোবর ২০২৬

বিসর্জনের সুরে বিদায়বেলা, বিষাদে ভারী পূজামণ্ডপ

দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত ভক্তরা, বিকেল ৩টার পর শোভাযাত্রা

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই