গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

মেনু

সঞ্চয়পত্রে কর বাড়েনি, নেই কালোটাকা বৈধের সুযোগ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৫৪ পিএম, ১৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৯ এএম ২০২৬
সঞ্চয়পত্রে কর বাড়েনি, নেই কালোটাকা বৈধের সুযোগ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বাড়ানো হয়নি এবং কালোটাকা বৈধ করার কোনো সুযোগও রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

রোববার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘অর্থ বিল ২০২৬-২৭-এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থ বিলের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সঞ্চয়পত্রের করব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়ন) মো. জাফর ইমাম বলেন, আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কাটা কর ছিল ন্যূনতম কর, যা অন্য কোনো আয়ের করের সঙ্গে সমন্বয় করা যেত না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে করদাতার অর্থ কার্যত নষ্ট হতো এবং সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগও থাকত না।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো করদাতার ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে ৫ লাখ টাকা মুনাফা এলে তার ওপর ৫ শতাংশ হারে ২৫ হাজার টাকা কর কাটা হয়। কিন্তু করমুক্ত আয়ের সীমা বিবেচনায় প্রকৃত করদায় যদি ১৫ হাজার টাকা হয়, তাহলে নতুন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়া যাবে অথবা অন্য আয়ের করের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে।

জাফর ইমাম জানান, কর ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় করদাতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে ১২০ দিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ করদাতার কর কমবে। বিশেষ করে যাদের সঞ্চয়পত্রের আয় ছাড়া অন্য কোনো আয় নেই, তারা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরও বলেন, যেসব ব্যক্তির সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি চাকরি, বাড়িভাড়া বা অন্য উৎস থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মোট আয়ের ওপর প্রযোজ্য করহারের ভিত্তিতে করের পরিমাণ বাড়তে পারে। কারণ সঞ্চয়পত্রে উৎসে ১০ শতাংশ কর কাটা হলেও তাদের করহার ২০, ২৫ বা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কালোটাকা বৈধ করার বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো কালোটাকা সাদা করার কোনো সুযোগ না রাখা। সে কারণে প্রস্তাবিত বাজেটে এ ধরনের কোনো বিধান রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, অতীতে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে আয়ের উৎস না দেখিয়েই ফ্ল্যাট বা বাড়ির বিনিয়োগ বৈধ করার সুযোগ ছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই নীতি থেকে সরে এসেছে এবং বাজেটে কালোটাকা বৈধ করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

তবে জমি ও সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দলিলে প্রদর্শিত মূল্য এবং প্রকৃত লেনদেনমূল্যের পার্থক্যজনিত জটিলতা নিরসনে আগেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত করহার অনুযায়ী কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে এবং নতুন অর্থবিলে এ বিষয়ে আলাদা কোনো বিধান সংযোজনের প্রয়োজন হয়নি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আকতার মালা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব (মূসক) বদরউদ্দিন মুন্সী, কাস্টমস নীতি বিভাগের প্রথম সচিব তারেক হাসান এবং হিসাববিদ স্নেহাশীষ বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসি/আপ্র/১৭/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

এক কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
১৯ আগস্ট ২০২৬

এক কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি কিনবে সরকার। আন্তর্জাতিক কো...

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, পাঁচজনের বেতন অবনমন
১৯ আগস্ট ২০২৬

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, পাঁচজনের বেতন অবনমন

চাকরি বিধি লঙ্ঘনের দায়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (ব...

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এগোবে বাংলাদেশ
১৮ আগস্ট ২০২৬

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এগোবে বাংলাদেশ

রাজস্ব খাতে সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ঋণনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বল...

৬০ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য, মিলবে উট পালনেও
১৮ আগস্ট ২০২৬

৬০ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্য, মিলবে উট পালনেও

চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা গ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে