লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি মাদরাসার শিশুশিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক এক শিক্ষক। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন ভিডিওটি নিজেই ধারণ ও প্রকাশ করেছিলেন বলে স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।
ঘটনাটি রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের একটি মাদরাসার। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা এবং ওই মাদরাসার সাবেক সহকারী শিক্ষক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক কান্নারত শিশুশিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। আতঙ্কে শিশুটি কান্না করতে থাকলেও শিক্ষক তার আচরণ বন্ধ করেননি। ভিডিওটি পোস্ট করার সময় তিনি লিখেছিলেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’— যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়।
সমালোচনার মুখে শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইমরান হোসেন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। তিনি দাবি করেন, পরীক্ষার সময় প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে শিশুটি কান্না শুরু করলে তিনি ‘দুষ্টামি করে’ মুখে বেত ধরেছিলেন। তবে তিনি শিশুটিকে বেত্রাঘাত বা ধমক দেননি বলে দাবি করেন। বিষয়টি যে এত নেতিবাচকভাবে দেখা হবে, তা তিনি ভাবেননি বলেও উল্লেখ করেন।
মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ জানান, প্রায় দুই মাস আগে ইমরান হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অপ্রয়োজনে শাস্তি দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। পরে এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, ভিডিওটি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ধারণ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মাদরাসাটি বন্ধ রয়েছে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করছেন না। ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এসি/আপ্র/১৯/০৭/২০২৬