দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা ও জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে। জনগণের সমর্থন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতেই দেশকে ন্যায়, ইনসাফ ও সমৃদ্ধির রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।
রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। তারা জনগণের সমর্থন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাস করে।
তিনি বলেন, “জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ন্যায়, ইনসাফ ও সমৃদ্ধির রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।”
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে-যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, সেসব বিষয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে দলগুলো নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, একটি মহল জুলাই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এসে আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত সরকারের দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের লুটপাট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয় অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে তা এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিলের সময় থেকেই দেশে একদলীয় শাসনের প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। দীর্ঘ সময়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করা হয়েছে, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, মামলা ও বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, অতীতের এসব ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গত ১৫ বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ইলিয়াস আলীসহ প্রায় এক হাজার ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, কঠিন সময়েও সাংবাদিকরা সত্য প্রকাশে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচকরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সানা/আপ্র/১৯/৭/২০২৬