আজাদুর রহমান: নাটোরের সিংড়ায় দোকান ভাড়া, কৃষিজমির ধানের মূল্য ও পুকুরের লিজের অর্থ অবৈধভাবে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এক পক্ষের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে স্বামীর বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগ করেছেন এক আইনজীবী।
অ্যাডভোকেট সারাবান তোহুরা সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর দেওয়া লিখিত আবেদনে দাবি করেন, তার স্বামী মরহুম অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান (মুন্টু) জীবদ্দশায় একাধিক নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কয়েকটি দোকান ও অন্যান্য সম্পত্তি তার নামে হস্তান্তর করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে সৎ ছেলে ও কয়েকজন আত্মীয় তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি ২১ আগস্ট সিংড়া আমলি আদালতে সৎ ছেলে আমিরুল মোমেনিন নিশানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার বসতবাড়িতে হামলা, মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে জোরপূর্বক ব্যাংকের ফাঁকা চেক, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটপাট করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ আছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর থেকে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে বগুড়ায় তার মায়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে অভিযুক্তরা তার মালিকানাধীন দোকানের ভাড়া, কৃষিজমির ধানের মূল্য ও পুকুরের লিজের অর্থ উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তিনি এসব অর্থ আদায়, ভবিষ্যতে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলন বন্ধ এবং জবরদখল প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, জোরপূর্বক দলিলে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগকারীকে মারধর ও নির্যাতন করে জমিজমার কাগজপত্র ও ব্যাংকের চেক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এবং কৌশলে তাকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন ও কল ডিটেইলস বিশ্লেষণে কয়েকজন বিবাদীর ঘটনাস্থলে উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যদিও কয়েকজনের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযুক্তিগত প্রমাণ মেলেনি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
এ বিষয়ে মামলার প্রধান বিবাদী আমিরুল মোমেনিন নিশান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা তাকে হামলা বা মারধর করিনি। বরং তিনি আমাদের বাড়ি থেকে দলিলপত্র নিয়ে চলে গেছেন।”
সানা/আপ্র/৫/৭/২০২৬