মানুষের তৈরি সবচেয়ে ব্যয়বহুল বস্তু পৃথিবীর বুকে নয়, ভাসছে মহাকাশে-আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। আধুনিক বিজ্ঞানের এই অনন্য স্থাপনা শুধু প্রযুক্তিগত বিস্ময়ই নয়, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মানবনির্মিত বস্তু হিসেবেও বিবেচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশের বার্ষিক জিডিপির চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে এই স্টেশন নির্মাণ ও পরিচালনায়। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এর মোট উন্নয়ন ও নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১১ হাজার ৭০০ কোটি থেকে ১৫ হাজার কোটি ডলারের মধ্যে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই মহাকাশ স্টেশন ২০০০ সালের শেষ দিকে প্রথমবারের মতো নভোচারীদের বসবাসের জন্য চালু হয়। তখন থেকে এটি মহাকাশ গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শুরুতে এই প্রকল্পের ব্যয় কয়েক শ কোটি ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও একাধিকবার পুনর্গঠনের কারণে খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়।
শুধু নির্মাণ নয়, এই স্টেশনের বার্ষিক পরিচালন ব্যয়ও অত্যন্ত বেশি। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৩২০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হয় এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রকেট উৎক্ষেপণ, সরঞ্জাম পরিবহন এবং নভোচারী পাঠানোর খরচই এই ব্যয়ের বড় অংশ। অতীতের হিসাব অনুযায়ী, একটি আসনেই নভোচারী পাঠাতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তিগত সমন্বয়, বারবার নকশা পরিবর্তন এবং সময়ক্ষেপণ ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।
বর্তমানে পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মহাকাশ স্টেশনটি আগামী দশকের মধ্যে অবসরে যাবে এবং সেটিকে নিরাপদভাবে ধ্বংস বা সরিয়ে ফেলার জন্যও বিপুল ব্যয় ধরা হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে গ্যাস প্ল্যান্ট, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক-যেগুলোও হাজার হাজার কোটি ডলারের প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৭/২০২৬