সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরো সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি সরকারি সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার বাড়ায় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন এক যৌথ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, অনলাইনে প্রকাশিত শিশুদের ছবি ব্যবহার করে যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা বাড়ছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাস্তবসম্মত শিশু নির্যাতনমূলক ৮ হাজারের বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ছবি ও ভিডিও শনাক্ত করা হয়েছে। এটি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজলভ্য ছবি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত বা ভুয়া কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা শিশুদের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক টিম রাইট বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবে প্রতিরোধমূলক সতর্কতা আরো গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন ও ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি নতুন নির্দেশনায় অভিভাবকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপনীয়তা সেটিংস পর্যালোচনা, সীমিত পরিসরে ছবি শেয়ার এবং শিশুদের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিশুর পরিচয় শনাক্ত করা যায় এমন ছবি-যেমন মুখ, স্কুলের পোশাক বা ব্যক্তিগত তথ্য-অনলাইনে প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
সংস্থাগুলো বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন দৈনন্দিন প্রযুক্তির অংশ হয়ে উঠলেও এর অপব্যবহার শিশুদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কেরি স্মিথ বলেন, এ ধরনের ঝুঁকি কাল্পনিক নয়, বরং বাস্তব। তাই অভিভাবকদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের প্রবণতা, যাকে ‘শেয়ারেন্টিং’ বলা হয়, তা দীর্ঘদিন ধরেই শিশুদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি সেই ঝুঁকি আরো বহুগুণ বাড়িয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৭/২০২৬