মানুষের সরাসরি তদারকি বা সহায়তা ছাড়াই প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে-এমন দাবি করেছেন নিরাপত্তা গবেষকেরা। ঘটনাটি প্রযুক্তি বিশ্বে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের বরাতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় একটি এআই এজেন্ট শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি র্যানসমওয়্যার ধরনের সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করেছে।
র্যানসমওয়্যার আক্রমণে সাধারণত ভুক্তভোগীর তথ্য বা ডেটা এনক্রিপ্ট করে তা ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মার্কিন ক্লাউড নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘সিসডিগ’–এর গবেষকরা এই এআই আক্রমণকারীকে ‘জেডপাফার’ নামে চিহ্নিত করেছেন। গবেষণা অনুযায়ী, এটি প্রথমে দুর্বল সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে লগইন তথ্য ও পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করে, এরপর মূল ডেটাবেইস লক বা এনক্রিপ্ট করে মুক্তিপণ দাবি করে।
গবেষকদের ভাষায়, এই পুরো প্রক্রিয়া কোনো মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই একটি বড় ভাষা মডেলভিত্তিক এআই দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে।
সিসডিগের থ্রেট রিসার্চ ডিরেক্টর মাইকেল ক্লার্ক এক ব্লগ পোস্টে বলেন, আগে সব র্যানসমওয়্যার আক্রমণের পেছনে মানুষের প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকলেও এবার এমন একটি ঘটনা দেখা গেছে, যা সম্পূর্ণভাবে এআই পরিচালিত আক্রমণের প্রমাণ হতে পারে।
তিনি জানান, এআইটি বাস্তব সময়েই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কৌশল পরিবর্তন করেছে এবং ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনরায় চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে মাত্র ৩১ সেকেন্ডের মধ্যে ব্যর্থ লগইন থেকে সফল অনুপ্রবেশে পৌঁছে যায়।
গবেষণায় আরো বলা হয়, আক্রমণটি চীনের বড় ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেছিল। পাশাপাশি দেখা গেছে, এই এআই সিস্টেম একাধিক ধাপে নিজস্ব সিদ্ধান্তে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম ছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এমনকি মুক্তিপণ পরিশোধ করা হলেও ভুক্তভোগীরা তাদের ডেটা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা পেতেন না, কারণ আক্রমণের সময়ই মূল ডেটা মুছে ফেলা হয়েছিল।
এখন পর্যন্ত গবেষণাটি পিয়ার রিভিউ হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ভবিষ্যতের সাইবার হুমকির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, যেখানে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এআই জটিল আক্রমণ পরিচালনা করতে সক্ষম হয়ে উঠছে।
এদিকে পাঁচ দেশের গোয়েন্দা জোট ‘ফাইভ আইস’ সম্প্রতি সতর্ক করে জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তি খুব শিগগিরই সাইবার আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা-উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৭/২০২৬