গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

মেনু

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জীবনাবসান

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:০২ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৮:০৭ এএম ২০২৬
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জীবনাবসান
ছবি

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক -ছবি সংগৃহীত

বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে পরিবারের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে নিকটস্থ একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জানান, পারিবারিক অনুষ্ঠানে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

জীবন ও শিক্ষা
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে সেখানেই অধ্যাপনা জীবন শুরু করেন।

তিনি জীবনের প্রায় চার দশক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীতে একই বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

কর্মজীবন ও অবদান
সাহিত্য, রাষ্ট্রচিন্তা ও সমাজ বিশ্লেষণে তাঁর ছিল গভীর অবদান। তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই ডজনেরও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও ইতিহাসভিত্তিক রচনা, সাহিত্য ও রাষ্ট্রচিন্তাবিষয়ক প্রবন্ধ, দর্শন ও রাজনীতি বিষয়ক বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ। তিনি একাধিক অনুবাদ ও সম্পাদনামূলক কাজেও যুক্ত ছিলেন।

আশির দশক থেকে তিনি ‘লোকায়ত’ নামে একটি মননশীল পত্রিকার সম্পাদনা করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন।

সম্মাননা ও স্বীকৃতি
১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। পরে বিভিন্ন সময় তিনি গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবন
তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যজন প্রকাশনা জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, রেস্তোরাঁয় খাবার গ্রহণের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দ্রুত চিকিৎসা সত্ত্বেও তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।

শিক্ষা, সাহিত্য ও রাষ্ট্রচিন্তার বিস্তৃত পরিসরে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা এই বুদ্ধিজীবীর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সানা/আপ্র/৫/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সচিবালয়ের সামনে ভাত বিক্রি করে আটক সোহানী শিফা
০৫ জুলাই ২০২৬

সচিবালয়ের সামনে ভাত বিক্রি করে আটক সোহানী শিফা

প্রতীকীভাবে ভাতের হোটেল চালু করে বিক্ষোভ করার সময় ‘হকার ও অটোরিকশা হটাও’ আন্দোলনের কর্মী সোহানী শিফ...

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু
০৫ জুলাই ২০২৬

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে নতুন...

তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: মন্ত্রী
০৫ জুলাই ২০২৬

তথ্য মন্ত্রণালয়ের আইন সময়োপযোগী করা হবে: মন্ত্রী

প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বিস্তারের ফলে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখ...

বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
০৫ জুলাই ২০২৬

বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার পিজিআর ও এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরো আধুনিকায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই