গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জীবনাবসান

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:০২ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৪:১৭ এএম ২০২৬
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জীবনাবসান
ছবি

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক -ছবি সংগৃহীত

বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে পরিবারের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে নিকটস্থ একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জানান, পারিবারিক অনুষ্ঠানে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

জীবন ও শিক্ষা
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে সেখানেই অধ্যাপনা জীবন শুরু করেন।

তিনি জীবনের প্রায় চার দশক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীতে একই বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

কর্মজীবন ও অবদান
সাহিত্য, রাষ্ট্রচিন্তা ও সমাজ বিশ্লেষণে তাঁর ছিল গভীর অবদান। তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিতের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই ডজনেরও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও ইতিহাসভিত্তিক রচনা, সাহিত্য ও রাষ্ট্রচিন্তাবিষয়ক প্রবন্ধ, দর্শন ও রাজনীতি বিষয়ক বিশ্লেষণমূলক গ্রন্থ। তিনি একাধিক অনুবাদ ও সম্পাদনামূলক কাজেও যুক্ত ছিলেন।

আশির দশক থেকে তিনি ‘লোকায়ত’ নামে একটি মননশীল পত্রিকার সম্পাদনা করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন।

সম্মাননা ও স্বীকৃতি
১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। পরে বিভিন্ন সময় তিনি গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত হন।

ব্যক্তিগত জীবন
তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অন্যজন প্রকাশনা জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, রেস্তোরাঁয় খাবার গ্রহণের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দ্রুত চিকিৎসা সত্ত্বেও তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।

শিক্ষা, সাহিত্য ও রাষ্ট্রচিন্তার বিস্তৃত পরিসরে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা এই বুদ্ধিজীবীর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানাজা সোমবার, শ্রদ্ধা জানানো হবে একাধিক স্থানে

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুপুর ১টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে মরদেহ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেওয়া হবে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে মরদেহ রাখা হবে। এরপর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও পরে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন করার সুযোগ দেওয়া হবে।
দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের জন্য অনুমতি প্রক্রিয়া চলছে। তার মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে।
সানা/আপ্র/৫/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় নারী নিহত, মন্ত্রী ঢাকার হাসপাতালে
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় নারী নিহত, মন্ত্রী ঢাকার হাসপাতালে

বগুড়ার শিবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢা...

‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করুন, ১৭ বছরের দোহাই আর দিয়েন না’
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান করুন, ১৭ বছরের দোহাই আর দিয়েন না’

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের দ্রুত সমাধান দাবি করে সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও অসন্তোষ জানিয়েছেন নাগরিক আন্দোলনের...

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই থাকুন
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই থাকুন

জন্মষ্টমীর আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশজুড়ে উৎসবের আবহে পালিত হলো শুভ জন্মাষ্টমী
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশজুড়ে উৎসবের আবহে পালিত হলো শুভ জন্মাষ্টমী

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নানা বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেশজুড়ে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রিয় পাঠক, আপনি মনে করেন র‌্যাব বিলুপ্তির এই উদ্যোগ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 19 ঘন্টা আগে