গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

মেনু

দেশে ঢোকানো হচ্ছে বিষাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৩৩ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২১:৪৯ এএম ২০২৬
দেশে ঢোকানো হচ্ছে বিষাক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী, বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে অবৈধভাবে বিদেশি ও বিষাক্ত প্রাণী আমদানি, সংরক্ষণ এবং বেচাকেনার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ ধরনের প্রাণী দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য যেমন হুমকি তৈরি করছে, তেমনি নতুন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে পরিচালিত এক অভিযানে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী উদ্ধার করে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট। উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে ছিল বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ন স্নেক, ডাম্পি ফ্রগ, লেপার্ড গেকো, সাইডনেক কচ্ছপসহ বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ ও উভচর প্রাণী।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিষাক্ত ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এসব প্রাণী বাংলাদেশে আমদানির ক্ষেত্রে আইনগত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই এগুলো দেশে আনা হচ্ছে।

অভিযান-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া প্রাণীর সংখ্যা ১ হাজার ১০৪ হলেও ওই স্থানে মোট প্রায় ছয় হাজার বিদেশি প্রাণী ছিল। অর্থাৎ, অভিযান পরিচালনার আগেই প্রায় পাঁচ হাজার প্রাণী বিক্রি হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, দেশে এখন অনেকেই শখের বসে ট্যারান্টুলা, বিদেশি সাপ এমনকি আফ্রিকার ব্যাঙও পালন করছেন। তার দাবি, অনুমোদিত কিছু পোষা প্রাণী আমদানির সুযোগকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে অবৈধ প্রাণীও দেশে প্রবেশ করছে।

তিনি আরো বলেন, বিমানবন্দরে স্বর্ণ বা অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি থাকলেও বিদেশি প্রাণী শনাক্তে পর্যাপ্ত দক্ষতা ও বিশেষায়িত ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বিমানবন্দরে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের একটি স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক জানান, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাকুরিয়ামের মাছ কিংবা অর্কিডের চালানের আড়ালে অবৈধ প্রাণী দেশে আনার চেষ্টা করা হয়, যা অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, পরিবহন বা কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিদেশি প্রাণী কোনো দেশে প্রবেশের আগে আন্তর্জাতিকভাবে কোয়ারেন্টাইন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। কারণ এসব প্রাণীর মাধ্যমে নতুন রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বিদেশি প্রাণী পালনের শখ যেমন বাড়ছে, তেমনি দেশকে ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশে অবৈধ পাচারের একটি রুট হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বিমানবন্দর ও সীমান্তে নজরদারি জোরদার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এসি/আপ্র/০৫/০৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ, সরকারের প্রতি ৫৪ শতাংশ
২০ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ, সরকারের প্রতি ৫৪ শতাংশ

সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে পরিচালিত এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনে ৬৬ দশ...

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পানি-স্যানিটেশনে দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ
২০ আগস্ট ২০২৬

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পানি-স্যানিটেশনে দক্ষিণ এশিয়ায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ শিশু তহবিলের যৌথ মনিটরিং কর্মসূচির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের...

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ, সিইসির দাবি ঐতিহাসিক, বিশ্ব তাকিয়ে
২০ আগস্ট ২০২৬

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ, সিইসির দাবি ঐতিহাসিক, বিশ্ব তাকিয়ে

আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পর...

রাষ্ট্রপতি ভোটের আগে বিদায়ী বক্তব্য কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
১৯ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি ভোটের আগে বিদায়ী বক্তব্য কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এক দিন আগে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন দলটির সদ্য স...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ শতাংশ, সরকারের প্রতি ৫৪ শতাংশ

সরকারের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে পরিচালিত এক জনমত জরিপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনে ৬৬ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ মানুষ। সরকারের কর্মকাণ্ডকে খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯০ শতাংশ। ডপলার অপিনিয়ন রিসার্চের ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই জরিপে সরকারের সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 5 ঘন্টা আগে