ঘন, মসৃণ ও সিল্কি চুল কার না পছন্দ! আশপাশে এমন অনেককেই দেখা যায়, যাদের ঝলমলে চুল দেখে মনে হয় তারা বুঝি ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলের যত্ন নিয়ে থাকেন। বাস্তবে কিন্তু বিষয়টি সব সময় তেমন নয়। চুল সুন্দর রাখতে দামি প্রসাধনী বা দীর্ঘ সময় ব্যয় করার প্রয়োজন হয় না। বরং প্রতিদিনের কয়েকটি সহজ অভ্যাসই চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, কোমল ও মসৃণ রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুল সব সময় পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই প্রাকৃতিক তেলই চুলকে আর্দ্র ও কোমল রাখে। ঘন ঘন শ্যাম্পু করলে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে।
চুলের ধরন অনুযায়ী সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন শ্যাম্পু করাই সাধারণত যথেষ্ট। পাশাপাশি হালকা কোনো তেল দিয়ে মাথার ত্বকে নিয়মিত মালিশ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং চুলের গোড়া পুষ্টি পায়।
হাতে যা পেলেন তাই দিয়ে চুল বেঁধে ফেলাই অনেকের অভ্যাস। কিন্তু শক্ত রাবার ব্যান্ড বা ধাতব অংশযুক্ত হেয়ার টাই চুলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এতে চুল ভেঙে যাওয়া ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সম্ভব হলে সিল্ক বা সাটিনের স্ক্রাঞ্চি ব্যবহার করুন। এগুলো চুলের সঙ্গে কম ঘর্ষণ সৃষ্টি করে এবং চুলের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সঠিক চিরুনি ব্যবহার করুন
ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানো কিংবা নিম্নমানের প্লাস্টিকের চিরুনি ব্যবহার করলে চুল দ্রুত ভেঙে যেতে পারে। চওড়া দাঁতের চিরুনি বা নিমকাঠের চিরুনি ব্যবহার করলে চুলের জট সহজে ছাড়ে এবং মাথার ত্বকেও কম চাপ পড়ে।
ধুলা-দূষণ থেকে চুলকে রক্ষা করুন
প্রতিদিনের ধুলা, ধোঁয়া ও দূষণ শুধু ত্বকের নয়, চুলেরও ক্ষতি করে। বাইরে যাওয়ার আগে হালকা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করলে চুলের ওপর একটি সুরক্ষার স্তর তৈরি হয়। রোদ বা দূষণ বেশি থাকলে পাতলা স্কার্ফ বা ওড়না দিয়ে চুল ঢেকে রাখতে হবে।
বাইরে থেকে ফিরে শুধু পানি দিয়ে চুল ভিজিয়ে ফেললেই হবে না। প্রয়োজনে চুল ভালোভাবে আঁচড়ে ধুলো ঝেড়ে নিন এবং প্রয়োজন হলে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করুন।
বারবার প্রোডাক্ট পরিবর্তন করবেন না
অনেকেই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় একের পর এক শ্যাম্পু, সিরাম বা হেয়ার মাস্ক পরিবর্তন করে থাকেন। এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহার করার আগে সেটি আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী উপযোগী কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একটি ভালো মানের পণ্য নিয়মিত ব্যবহার করলে ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রাকৃতিক উপাদানেও মিলতে পারে উপকার
চুলের যত্নে সব সময় দামি প্রসাধনীর প্রয়োজন হয় না। ডিমের কুসুম, অ্যালোভেরা জেল, নারিকেল তেল বা লেবুর রসের মতো কিছু প্রাকৃতিক উপাদান অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে এগুলো ব্যবহারের আগে মাথার ত্বকে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতার সমস্যা আছে কি না, সেটাও জেনে নিতে হবে।
নিয়মিত ট্রিম করুন
চুলের আগা ফেটে গেলে পুরো চুলই নিষ্প্রাণ দেখায়। তাই প্রতি ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ পরপর চুলের আগা সামান্য ছেঁটে ফেললে স্প্লিট এন্ডস কমে এবং চুল দেখতে আরও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকে।
শুধু বাইরের পরিচর্যা নয়, সুন্দর চুলের জন্য সুষম খাদ্যও গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও পর্যাপ্ত পানি শরীরকে যেমন সুস্থ রাখে, তেমনি চুলের বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও নজর দিতে হবে।
মসৃণ ও সিল্কি চুলের রহস্য লুকিয়ে আছে নিয়মিত যত্নে। অযথা বেশি প্রসাধনী ব্যবহার না করে, চুলের ধরন অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং দৈনন্দিন কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই দীর্ঘদিন চুল থাকবে সুন্দর, কোমল ও প্রাণবন্ত।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ভোগ
এসি/আপ্র/০৫/০৭/২০২৬