চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের উদ্দেশে প্রতীকী লাল কার্ড দেখিয়ে তাঁর নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন তাঁরা। আগের রাতেও শিক্ষার্থীরা পালা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক পাহারা দেন।
সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন থেকে তাঁরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। এতে চুয়েটের ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড প্রদর্শনের কর্মসূচিটি মূলত নতুন উপাচার্যের একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে করা হয়। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, আন্দোলনে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর এ বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করে এর প্রতিবাদে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।
শনিবারের বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি চলবে।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, নতুন উপাচার্য অনলাইনে যোগদান করেছেন। গণমাধ্যমে তাঁর দেওয়া বক্তব্যও শিক্ষার্থীদের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, তাঁদের একমাত্র দাবি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা। একই সঙ্গে তাঁরা দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাঁরা নিজেরাও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান এবং তাঁদের একাডেমিক জীবন ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই মূলত আন্দোলনের সূত্রপাত। ২৭ জুলাই তিনি চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটি অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। আবাসিক হল ও জরুরি কার্যক্রম এ কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। চুয়েট কর্মকর্তা সমিতিও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল করেন। শুক্রবারও তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। সব মিলিয়ে উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে চলা আন্দোলনে চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
সানা/আপ্র/২৭/৯/২০২৬