জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ছবি, কণ্ঠ ও ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে একটি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সারাফাত হোসেন, সাফায়েত হোসেন শুভ, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, তাকিবুল হাসান, আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, মিনহাজুর রহমান শাহেদ, শাহামান তৌফিক, ইমন হোসেন বিজয়, অমিদ হাসান ও মো. ইমরান।
পুলিশ জানায়, চক্রটি ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী, রাজনীতিবিদ তাসনিম জারা, চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করত। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করা হতো।
গত ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে ৯ জন এবং পরদিন মোহাম্মদপুরের একটি এলাকা থেকে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মোহাম্মদপুরের একটি গুদাম থেকে প্রায় তিন টন যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়। এছাড়া প্রতারণায় ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও অন্যান্য সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটির মূল হোতা সারাফাত হোসেন প্রযুক্তি ও ওয়েব ডিজাইনে দক্ষ ছিলেন এবং তার সহযোগী শুভ এআই দিয়ে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করতেন। চট্টগ্রাম থেকে অনলাইনে প্রচারণা চালানো হলেও পণ্য সরবরাহ করা হতো ঢাকার মোহাম্মদপুরের গোডাউন থেকে।
কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব পণ্য পাঠানো হতো। কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, এটি একটি সুসংগঠিত অনলাইন প্রতারণা চক্র, এবং এর আরো সদস্য ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্তে অভিযান চলছে।
সানা/আপ্র/২৫/৪/২০২৬