আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চীনের সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফি’ পুরস্কার অর্জন করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সামিউল করিম সুপ্তক। এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট কম্পিটিশন বিভাগে এই স্বীকৃতি পান তিনি।
‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (সাঁকোটা দুলছে)’ চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রহণের জন্য শনিবার রাতে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে উৎসবে চিত্রগ্রাহকের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ। সুপ্তক ও জিহাদ দুজনই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
চলচ্চিত্রটি ১২ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীনের সাংহাই শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করে।
চলচ্চিত্রটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ জিহাদ। প্রযোজনা করেছেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও অভিনেতা মনোজ কুমার প্রামাণিক। বাংলাদেশি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ম্যানপাচিত্রা এবং জার্মানির মোগাদর ফিল্মের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি।
পুরস্কার পাওয়ার খবরটি সুপ্তক জানতে পারেন শুটিং চলাকালীন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে। তখন তিনি অন্য একটি কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
প্রতিক্রিয়ায় সামিউল করিম সুপ্তক বলেন, এই অর্জন তার কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি বলেন, এটি তার প্রথম টেকনিক্যাল সম্মাননা, যা তার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
চলচ্চিত্রটির শুটিং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২২ সালে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের দিকে কাজ শেষ হয়। গ্রামীণ লোকেশনে সীমিত সরঞ্জাম ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কাজটি সম্পন্ন করতে হয়েছে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় শুটিং সম্পন্ন হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চলচ্চিত্রটি মূলত গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন নারীর জীবন সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এতে কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে নারীদের স্বপ্ন ও লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। সম্পূর্ণ সাদা-কালো এই চলচ্চিত্রটি ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সামাজিক বাস্তবতার প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি ভিন্নধর্মী কাজ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৪/৬/২০২৬