গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

শিশুর চকলেট-খেলনা আর কিশোরী-তরুণীর প্রেম-বিয়ের টোপ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৪ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৮ এএম ২০২৬
শিশুর চকলেট-খেলনা আর কিশোরী-তরুণীর প্রেম-বিয়ের টোপ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

প্রেমের নামে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ বা গণধর্ষণ, ওই দৃশ্যের ছবি তোলা বা ভিডিও করা, ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে ব্ল্যাকমেইল করা অথবা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করা- এই শ্রেণির অপরাধীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের দিয়ে ব্যবসা করা অথবা শুধু ভোগ করে যৌন আনন্দ চরিতার্থ করা। শিশু ও কিশোরী মেয়েরা খুব সহজেই এই ফাঁদে পা দেয়। ছোট শিশুদের জন্য এই ফাঁদ হচ্ছে মিষ্টি কথা, আদর, চকলেট-চিপস, চানাচুর বা খেলনা দেওয়ার টোপ। এই শিশুদেরও পরিবার থেকে এই বিষয়ে সাধারণত সচেতন করা হয় না।

কিশোরী-তরুণীদের জন্য এই ফাঁদ হচ্ছে প্রেম-ভালোবাসা, বিয়ে, যৌনতা, অর্থ, চটকদার উপহার, বিত্তময় জীবনের আশ্বাস, স্টার হওয়ার প্রলোভন ইত্যাদি। ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছাড়াও এই ফাঁদ পাতার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে। এই মাধ্যমে সহজেই মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আকৃষ্ট করা যায়। কেউ কেউ ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে দৈহিক সম্পর্ক করে। ভোগ করা হয়ে গেলে পালিয়ে যায় বা অস্বীকার করে। মেয়েটির পক্ষ থেকে এটা খুব ভুল পদক্ষেপ। কারণ বিয়ের প্রতিশ্রুতি পেলেই কেন মেয়েটিকে একটি ছেলের শয্যাসঙ্গী হতে হবে? পরে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের বা সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবি নিয়ে হন্যে হয়ে পড়ে থাকা কতটা সম্মানের হয়?

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের আইনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী বল প্রয়োগ ছাড়া ১৬ বছরের বেশি বয়সী কোনও নারী বা মেয়ের সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবৈধ যৌন সম্পর্ককে আগের মতো ধর্ষণের সংজ্ঞায় রাখা হয়নি। এটি আইনে আলাদা ধারায় চিহ্নিত করা হয়েছে। আর এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হবে সাত বছরের কারাদণ্ড, মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নারী এই সম্পর্কে জড়ানোর দায়ভার এড়াতে পারবেন না। অনেক মেয়ে ভালোবেসে এ ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরে বিপদগ্রস্ত হন। কেউ কেউ সন্তানের জন্ম দিতেও বাধ্য হন। কাজেই ভালোবাসার সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে, বিশেষ করে মেয়েদের নিজেদের নিরাপত্তার দিকটি ভাবতে হবে। প্রেম মানেই চরম সমর্পণ, অন্তরঙ্গতা, একা হোটেলে বা কারও বাসায় যাওয়া, নগ্ন ছবি বিনিময় বা ওরাল সেক্সও নয়। কারণ কে যে কোথায় কীভাবে ওত পেতে আছে, এটা জানা খুব কঠিন। এরপর এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়, যখন সুইসাইড করতে হয়, খুন হতে হয়, ধর্ষণের শিকার হতে হয় বা অভিশপ্ত জীবন কাটাতে হয়।

বন্ধু বা প্রেমিক নির্বাচনের সময়ও লক্ষ করতে হবে ব্যক্তিটি কেমন, তার আচার-ব্যবহার, রুচি, বন্ধু সার্কেল বিষয়ে খোঁজ রাখতে হবে। ‘সরল বিশ্বাসে’ বা শুধু ‘প্রতিশ্রুতি’তে এমন সম্পর্কে জড়ানো যাবে না- যা ভয়াবহ বিপদ, এমনকি মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে। কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে তা একেবারে গোপন না করে কী ঘটছে, তা অন্তত একজন কাছের বন্ধু বা পরিবারের কোনও সদস্যকে জানিয়ে রাখা দরকার। ছেলেমেয়েরা যখন বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছে, তখন তারা শরীর ও মন নিয়ে বেশ মরিয়া হয়ে থাকে। তথ্য গোপন করে এমন ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে যায় বা মাদক টাইপ এমন সব জিনিসপত্র গ্রহণ করতে শুরু করে- যা তাদের জন্য ক্ষতিকর। যেহেতু আমাদের দেশে প্রজনন স্বাস্থ্য, নারীর শরীরের নিরাপত্তা বিষয়ে মেয়েদের কিশোরী বয়সে সচেতন ও সাবধান করা হয় না, তাই খুব সহজেই তাদের পা ফসকে যায়।

কোনও মেয়ে যদি একা কষ্টের মধ্যে থাকে, ডিভোর্সি ও প্রেমে ব্যর্থ হয়, বিষণ্নতায় ভোগে, তাহলে তাদের পাশে বন্ধুর মতো দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। এমনকি চক্রান্তকারী ‘প্রেমিক পুরুষটি’ মেয়েটিকে বশে আনার জন্য বিভিন্ন চাহিদাও মিটাতে শুরু করে। যখন মেয়েটি বিশ্বাস করে পুরোপুরি ফাঁদে পড়ে যায়, তখন তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ব্ল্যাকমেইল করা শুরু হয়। এ জন্যই সম্পর্ক তৈরির সময় অনলাইনে যেমন সচেতন থাকতে হবে, তেমনি সচেতন থাকতে হবে অফলাইনেও। কিশোরী-তরুণীরা বিচার-বিবেচনা না করেই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। কারও সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন বা বন্ধুত্ব করার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বোচ্চ সতর্কতাই পারে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে। তাই প্রত্যেক মেয়েকেই সচেতন হতে হবে, যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িয়ে না পড়েন। মেয়েরা সচেতন কম হলে, তার বিপদে পড়ার আশঙ্কা বেশি হয়।

গত কয়েক বছরে নারীকে ফাঁদে ফেলার ‘সহজ অস্ত্র’ হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে সাইবার জগৎকে। সাইবার জগতে নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটানোর ক্ষেত্রে পরিচিত-অপরিচিত, সাবেক স্বামী বা প্রেমিক, অনলাইন বন্ধু, সহপাঠী-বন্ধু, প্রতিবেশী সবাই তৎপর। প্রেম বা ভালোবাসার টোপ দিয়ে এমনভাবে মেয়েদের জালে জড়িয়ে ফেলা হয়- যেখান থেকে তাদের পক্ষে বেরিয়ে আসা খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার ব্যাপক বেড়েছে, অন্যদিকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের গড় বয়স কমছে। তাহলে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে অনলাইনটা সবচেয়ে বড় ফাঁদ শিশু-কিশোর ও কিশোরীদের জন্য। এখানে কিশোরী-তরুণীদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। এরপর প্রেম, ভালোবাসা, টিকটক স্টার বানানোর প্রতিশ্রুতি। দেশে ইতোমধ্যে এমনও ঘটনা ঘটছে যে গোপন ক্যামেরা দিয়ে তোলা নোংরা ভিডিওচিত্রে নিজেদের আপত্তিকর ছবি দেখে অনেক কিশোরী আত্মহননের পথও বেছে নিয়েছেন। এসব ছবি নেটে দেয় তাদেরই বন্ধু-প্রেমিকরা। প্রেম চলাকালীন আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকাও আদায় করা হয়। টাকা দিতে না পারলে মেয়েদের ভিডিও কলে এনে তাদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করে। সারা দেশে এই ধরনের ইন্টারনেটভিত্তিক গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠছে- যারা ফাঁদে ফেলে শিশু-কিশোর ও নারীদের নিয়ে ব্যবসা করছে।

কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

কন্যাশিশুর বেড়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতা
০৭ অক্টোবর ২০২৬

কন্যাশিশুর বেড়ে ওঠার পথে প্রধান বাধা দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতা

কন্যাশিশু জন্মের পর লিঙ্গ পরিচয়ই যেন তার স্বপ্ন দেখার অধিকার হরণ করতে চায়। অথচ একজন মানুষ হিসেবে পৃথ...

রঙ-গন্ধহীন অদৃশ্য সিসায় ধ্বংস হচ্ছে শিশুর শৈশবসহ ভবিষ্যৎ
০৭ অক্টোবর ২০২৬

রঙ-গন্ধহীন অদৃশ্য সিসায় ধ্বংস হচ্ছে শিশুর শৈশবসহ ভবিষ্যৎ

একটি শিশু উঠানে খেলছে। কখনো মাটিতে বসছে, কখনো খেলনা হাতে নিচ্ছে আবার কখনো ওই হাতই মুখে দিচ্ছে। পাশেই...

যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলায় অস্ত্রচালনা শিখছেন ইরানের নারীরা
০৭ অক্টোবর ২০২৬

যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলায় অস্ত্রচালনা শিখছেন ইরানের নারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা ও যুদ্ধের হুমকি মোকাবিলায় নারীদের অস্ত্রচালনা এবং শহরের ভেতরে সরাসরি য...

এআইয়ের অপব্যবহারে অনলাইনে বাড়ছে শিশু নিপীড়নের চিত্র
০৬ অক্টোবর ২০২৬

এআইয়ের অপব্যবহারে অনলাইনে বাড়ছে শিশু নিপীড়নের চিত্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়নের উপাদান আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই