প্যাকেটজাত খাবারের মতো হাতের স্মার্টফোনটিরও নির্দিষ্ট ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা মেয়াদ রয়েছে- এমন ধারণা অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই নতুন। মূলত নির্মাতা কোম্পানি যখন ডিভাইসে নিরাপত্তা আপডেট দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখনই ফোনটি ধীরে ধীরে নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে কোনো একক বা সর্বজনীন আপডেট নীতি নেই। গুগল অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করলেও একটি ফোন কতদিন আপডেট পাবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট নির্মাতা কোম্পানির ওপর।
ফোনের ‘এন্ড অব লাইফ’ বা মেয়াদ শেষের সময় বলতে বোঝায়, যখন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর কোনো সফটওয়্যার বা নিরাপত্তা আপডেট পাঠায় না। তবে এর মানে এই নয় যে ফোনটি সঙ্গে সঙ্গেই অচল হয়ে যায়। বরং ধীরে ধীরে এর নিরাপত্তা দুর্বলতা বাড়তে থাকে, বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিং, কেনাকাটা বা সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্মার্টফোনে আপডেট দেওয়ার সময়সীমা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। গুগল ও স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি সাপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জুনের পর বাজারে আসা নতুন স্মার্টফোনগুলো বিক্রি বন্ধের পর অন্তত পাঁচ বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
ব্যবহারকারীরা কীভাবে বুঝবেন তাদের ফোনের সাপোর্ট কবে শেষ হবে-এ বিষয়ে প্রযুক্তিবিদরা কিছু সহজ পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন।
প্রথমে ফোনের সেটিংস থেকে ‘অ্যাবাউট ফোন’ অংশে গিয়ে মডেল নাম ও নম্বর জানা যায়। এরপর নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য ‘এন্ডঅফলাইফডটডেট’ নামের ওয়েবসাইটে নির্মাতা ও মডেল অনুযায়ী অনুসন্ধান করে আপডেট শেষ হওয়ার সময় জানা সম্ভব।
বিকল্পভাবে ইন্টারনেটে ফোনের মডেলের সঙ্গে ‘সফটওয়্যার সাপোর্ট শেষ’ বা ‘আপডেট গ্যারান্টি’ লিখে অনুসন্ধান করলেও ধারণা পাওয়া যায়। এছাড়া সেটিংসে থাকা ‘সিকিউরিটি প্যাচ লেভেল’ দেখে বোঝা যায় ফোনটি কতা সাম্প্রতিক আপডেট পাচ্ছে। যদি এই তারিখ কয়েক মাসের বেশি পুরোনো হয়, তবে সেটি আপডেট বন্ধ হওয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।
মেয়াদ শেষ হওয়া ফোন ব্যবহার করা পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে অনলাইন ব্যাংকিং, ইমেইল, পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা বা আর্থিক লেনদেনের মতো সংবেদনশীল কাজে এসব ডিভাইস ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোর আর কোনো সমাধান আসছে না, ফলে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণ ব্যবহারের জন্য যেমন গান শোনা, ভিডিও দেখা বা জিপিএস নেভিগেশন-এসব কাজে পুরোনো ফোন কিছু সময়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি এতে সংবেদনশীল তথ্য না রাখা হয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, নতুন ফোন কেনার সময় ‘আপডেট গ্যারান্টি’ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বর্তমানে গুগল পিক্সেল ও স্যামসাংয়ের নির্দিষ্ট কিছু সিরিজ দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সাপোর্ট প্রদান করছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৭/৬/২০২৬