গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

মেনু

রেকর্ড ভাঙতে পারে এবারের ভয়ংকর এল নিনো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৫১ পিএম, ১৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫৯ এএম ২০২৬
রেকর্ড ভাঙতে পারে এবারের ভয়ংকর এল নিনো
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বের আবহাওয়া ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব ফেলা জলবায়ুগত ঘটনা এল নিনো আবারও সক্রিয় হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসন গত ১১ জুন নতুন এল নিনোর সূচনার ঘোষণা দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এবারের এল নিনো গত ৭৫ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিধ্বংসী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বাভাস অনুযায়ী এল নিনোর তীব্রতা বাড়লে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, দাবানল এবং খাদ্যসংকটের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আফ্রিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এল নিনো মূলত নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বৈশ্বিক জলবায়ুগত চক্র। শত শত বছর আগে পেরুর জেলেরা বড়দিনের সময় মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার এ ঘটনাকে ‘এল নিনো’ নামে অভিহিত করেন, যার অর্থ ‘শিশু যিশু’। বর্তমানে এটি বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হয়।

আবহাওয়াবিদরা জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেলে সেটিকে শক্তিশালী এল নিনো ধরা হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময় এবং ২০২৭ সালের শুরুতে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে এমনকি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে বিবেচিত ১৯৮২-৮৩ সালের ঘটনায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছিল। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এবারের এল নিনো সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্টি না হলেও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে মিলিত হয়ে এর প্রভাব অনেক বেশি তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর পর বিশ্বে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে ২০২৪ সাল সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ডধারী। জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, ২০২৭ সালে নতুন রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নধর্মী আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ দেখা দেয়। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যা হতে পারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সোমালিয়ায় অক্টোবর পর্যন্ত খরা এবং পরে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ খরার পর হঠাৎ অতিবৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে। কারণ শুকিয়ে যাওয়া মাটি দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে না, ফলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং এশিয়ার বিভিন্ন এলাকাও খরার হুমকির মুখে রয়েছে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও বিদ্যমান খাদ্যসংকটে ভোগা অনেক দেশের জন্য শক্তিশালী এল নিনো নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশন সতর্ক করেছে, সুদান, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, চাদ, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা এবং হাইতির মতো দেশগুলো মানবিক সংকটের আরো গভীরে চলে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর প্রভাব পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যায়। খরাসহিষ্ণু বীজের ব্যবহার, খাদ্য ও পানি সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা এখনই জরুরি।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

এসি/আপ্র/১৭/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

এবার ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ থামাতে চান ট্রাম্প
১৭ জুন ২০২৬

এবার ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ থামাতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁ...

স্লোভাকিয়ার সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত নরেন্দ্র মোদি
১৭ জুন ২০২৬

স্লোভাকিয়ার সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত নরেন্দ্র মোদি

স্লোভাকিয়ার সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মাননা ‘দ্য অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ডবল ক্রস (ফার্স্ট ক্লাস)’-এ ভূষিত হয়ে...

চীনে প্রতিবছর রক্তদান করেন দেড় কোটি মানুষ
১৭ জুন ২০২৬

চীনে প্রতিবছর রক্তদান করেন দেড় কোটি মানুষ

চীনে প্রতি বছর ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎস...

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন
১৭ জুন ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত সমঝোতা চুক্তিটি ডিজিটাল মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জান...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই