একটি সুইমিং পুলে পরীক্ষামূলকভাবে একসঙ্গে ১১৬টি ছোট ড্রোন সফলভাবে পরিচালনা করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীন। একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি পানির নিচে চলাচলকারী যান পরিচালনার ক্ষেত্রে এ রেকর্ড গড়া হয়েছে।
২৯ আগস্ট ৫০ মিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার প্রশস্ত একটি পুলে এ পরীক্ষা চালানো হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মহড়াটি সম্পন্ন হয়। পরে রেকর্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই ও প্রকাশ করা হয়।
নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক এ রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, পরীক্ষায় ‘টিএইচ-৬১৮’ নামের একঝাঁক ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
এ কাজে সহযোগিতা করেছে চীনের প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিয়ান তিয়েনহে ডিফেন্স টেকনোলজির সামুদ্রিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী সহযোগী প্রতিষ্ঠান শিয়ান তিয়েনহে মেরিটাইম টেকনোলজিস।
পরীক্ষায় ড্রোনগুলোকে পর্যায়ক্রমে পানিতে নামানো হয়। মানুষের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাৎক্ষণিক তথ্য ব্যবহার করে এবং পূর্বনির্ধারিত রুট মেনে এগুলো পানির নিচে ৫০০ মিটার দীর্ঘ পথে ৩৪ মিনিট ধরে দলবদ্ধভাবে চলাচল করে।
নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি বলেছে, ডজন ডজন বা শতাধিক ডুবোযানকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়, দীর্ঘস্থায়ী ও সমন্বিতভাবে চলাচলের সক্ষমতা দেওয়া দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচের বুদ্ধিমান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শতাধিক যানের স্থিতিশীল দলগত নেভিগেশন পানির নিচে মানবহীন ব্যবস্থার বৃহৎ পরিসরে সমন্বিত নেভিগেশনের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি।
‘টিএইচ-৬১৮’ ড্রোনগুলোর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৬১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ২০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৫ দশমিক ১৪ কেজি। এগুলোর সর্বোচ্চ পাল্লা ৩০ কিলোমিটার এবং ব্যাটারির স্থায়িত্ব আট ঘণ্টার বেশি।
ড্রোনগুলো মোবাইল ফোনের ভিশন ক্যামেরা ব্যবস্থা ব্যবহার করে চলাচল করে। কোনো প্রতিবন্ধকতা বা বাধার মুখে পড়লে নিজেদের রুট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামঞ্জস্য করে নেওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন সামরিক বাহিনী ক্রু-চালিত প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি মানবহীন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। চীনও স্থল, আকাশ ও সমুদ্রজুড়ে ড্রোনের দলগত পরিচালনা প্রযুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে।
গত ডিসেম্বরে ইউক্রেইন জানিয়েছিল, তারা প্রথমবারের মতো পানির নিচের ড্রোন দিয়ে একটি সাবমেরিনে হামলা চালিয়েছে। কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী বন্দরনগরী নোরোসিস্কে নোঙর করে রাখা একটি রুশ জাহাজে ওই হামলা চালানো হয়।
জুলাইয়ে ডালিয়ান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও চায়না কোস্ট গার্ড অ্যাকাডেমির গবেষকেরা দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত দ্বীপগুলো রক্ষায় সমন্বিত ড্রোনের দল ব্যবহারের একটি প্রস্তাব প্রকাশ করেন। এতে পানির নিচের যান ব্যবহার করে শনাক্তকরণের ফাঁকফোকর কমানোর কথা বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত চীনা ভাষার জার্নাল ‘কমান্ড কন্ট্রোল অ্যান্ড সিমুলেশন’-এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ৪১টি স্বায়ত্তশাসিত রোবটের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রকল্পসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলেও পানির নিচে ড্রোনের দলগত পরিচালনা নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩০/৯/২০২৬