২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গোল, ট্রফি ও নাটকীয় মুহূর্তের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের গতিও ছিল আলোচনার অন্যতম বিষয়। এবার সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ গতির পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ফিফা।
তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে, যিনি ঘণ্টায় ৩৭.৬১ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে টুর্নামেন্টের দ্রুততম ফুটবলার হয়েছেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো, বিশ্বকাপজয়ী স্পেনের কোনো খেলোয়াড়ই সেরা ১০০ দ্রুততম ফুটবলারের তালিকায় নেই। স্পেনের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অ্যালেক্স বায়েনা রয়েছেন ১১৩তম স্থানে।
বিশ্লেষকদের মতে, লা রোজার বল দখলভিত্তিক খেলার কৌশলে অতিরিক্ত গতির চেয়ে পাসিং ও পজিশনিং বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এমন চিত্র দেখা গেছে। ফিফার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সুইডেনের অ্যান্থনি এলাঙ্গা, যার সর্বোচ্চ গতি ছিল ৩৭.১৬ কিমি/ঘণ্টা।
তৃতীয় স্থানে টটেনহ্যামের ডিফেন্ডার মিকি ফন ডে ভেন, যিনি ঘণ্টায় ৩৬.৭৭ কিলোমিটার গতিতে ছুটে নরওয়ের গোলমেশিন আরলিং হালান্ডকেও পেছনে ফেলেছেন।
হলান্ডের সর্বোচ্চ গতি ছিল ৩৬.৫২ কিমি/ঘণ্টা, যা তাকে তালিকার পঞ্চম স্থানে রেখেছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার জর্ডান বস (৩৬.৬৭ কিমি/ঘণ্টা), আর ষষ্ঠ স্থানে আছেন উজবেকিস্তানের আব্দুকোদির খুসানভ (৩৬.৪৬ কিমি/ঘণ্টা)। যদিও তার দল নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি, তবুও গতির দিক থেকে তিনি সেরাদের একজন ছিলেন।
ফ্রান্সের উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলা (৩৬.৩২), ইংল্যান্ডের জেড স্পেন্স (৩৬.২২), ফ্রান্সের থিও হার্নান্দেজ (৩৬.১৭) এবং পর্তুগালের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদো (৩৫.৯০) যথাক্রমে সপ্তম থেকে দশম স্থান দখল করেছেন। ৩২ বছর বয়সী সেমেদোই এই তালিকার সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়।
১১ থেকে ২০ নম্বরে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডন, অস্ট্রেলিয়ার মোহাম্মদ তোরে, নেদারল্যান্ডসের রায়ান গ্রাভেনবার্খ, যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন, নরওয়ের মার্কাস হোলমগ্রেন পেডারসেন, ইকুয়েডরের অ্যালান মিন্দা, নরওয়ের সন্দ্রে লাঙ্গাস, মরক্কোর আশরাফ হাকিমি, ফ্রান্সের দায়ো উপামেকানো এবং পর্তুগালের পেদ্রো নেতো।
আর্জেন্টাইন তারকা জিউলিয়ানো সিমিওনে তালিকার ২৩তম স্থানে রয়েছেন। তালিকার ৯৬তম স্থানে থেকে ব্রাজিলের এই বিশ্বকাপের দ্রুততম খেলোয়াড় হয়েছেন দানিলো। এমবাপের সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এলাঙ্গার ব্যবধান মাত্র ০.৪৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা হলেও, ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই পার্থক্যই বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হয়।
যদিও ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা জিততে পারেনি, এমবাপে টুর্নামেন্ট শেষ করেছেন গোল্ডেন বুট জিতে এবং বিশ্বকাপের দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে। ফিফার এই পরিসংখ্যান আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবলে গতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হলেও শিরোপা জয়ের জন্য সেটিই একমাত্র নির্ধারক নয়।
স্পেন কোনো খেলোয়াড়কে শীর্ষ ১০০ দ্রুততমের তালিকায় রাখতে না পারলেও দুর্দান্ত দলগত সমন্বয়, বলের দখল এবং কৌশলগত ফুটবল খেলেই ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে।
ডিসি/আপ্র/২৩/০৭/২০২৬