রাজধানীর দারুস সালামে নিজ বাসায় গৃহবধূ জেসমিন বেগম গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে র্যাব। সংস্থাটির দাবি, বাইরে থেকে নয়, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে জেসমিনকে তাঁর স্বামী আব্দুল মান্নান ওরফে আব্দুল হান্নানই গুলি করেন। পরে অস্ত্রটি তাঁর ছেলে রাকিবের কাছে দিয়ে লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে দারুস সালামের মাতবরবাড়ি মসজিদ গলি এলাকায় নিজ বাসায় ৩৮ বছর বয়সী জেসমিন ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, জানালা খোলা রেখে টেলিভিশন দেখার সময় বাইরে থেকে কে বা কারা গুলি করলে তিনি আহত হন।
রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার কারওয়ানবাজারে র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তে তাঁরা জানতে পেরেছেন, জেসমিনকে তাঁর স্বামীই গুলি করেছেন। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার সময় উত্তেজিত হয়ে একপর্যায়ে তিনি গুলি করেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আব্দুল মান্নানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে র্যাব-৪ ও দারুস সালাম থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে মান্নান ও জেসমিনের ছেলে রাকিবকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মান্নান গুলি করার পর অস্ত্রটি ছেলে রাকিবের কাছে দেন। রাকিব সেটি তাঁর বন্ধু হাতিম মিয়ার বাসায় লুকিয়ে রাখেন। রাকিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাতিমের বাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পরে হাতিমকেও গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, অভিযানে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে ২১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। র্যাবের দাবি, পিস্তলটি মান্নানের নিজের।
র্যাব-৪-এর অধিনায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, আব্দুল মান্নান বেশির ভাগ সময় মাদকাসক্ত থাকতেন। ঘটনার রাতে তিনি মাতাল অবস্থায় বাসায় ফেরেন এবং এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া-বিবাদ হয়। একপর্যায়ে মাতাল অবস্থায় তিনি স্ত্রীকে গুলি করেন। গুলিটি জেসমিনের ডান হাতের বাহুতে লাগে।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানকে এলাকার ‘কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী’ দাবি করে বলেন, অস্ত্র ব্যবহার করে তাঁর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তথ্য র্যাবের কাছে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।
তবে মান্নানের ছেলে রাকিব মাদকাসক্ত—এমন কোনো তথ্য তাঁরা পাননি বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা। তাঁর ভাষ্য, মান্নান ঘটনার পর নিজেকে রক্ষা করার জন্য ছেলের কাছে অস্ত্রটি দিয়ে কোথাও লুকিয়ে রাখতে বলেছিলেন।
গুলিবিদ্ধ জেসমিনের মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান বলেন, জেসমিন মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। তাঁর দাবি, মান্নান মাদক ব্যবসা করতেন ও মাদকাসক্ত ছিলেন এবং এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁদের সংসারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে জানালা দিয়ে দুর্বৃত্তের গুলি ছোড়ার যে দাবি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, মান্নান এমন ঘটনা স্বীকার করেননি। তাঁদের ধারণা, ছেলে রাকিবও বিষয়টির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে জানালা দিয়ে বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা গুলি করেছে—এমন একটি গল্প তৈরি করা হয়েছিল বলে র্যাবের দাবি।
এদিকে গুলিবিদ্ধ জেসমিন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। র্যাব জানিয়েছে, তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
আমিনবাজারে এসআই হত্যাকাণ্ড: এদিকে আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায়ও কথা বলেন র্যাব-৪-এর অধিনায়ক। তিনি জানান, ওই ঘটনায় চারজন ব্যক্তি পুলিশের এসআইয়ের ওপর হামলা করেন বলে প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁদের ধারণা, হামলাকারীরা একটি গাড়িতে ছিলেন এবং সম্ভবত মাদকাসক্ত ছিলেন।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে তাঁদের ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। বিষয়টি মীমাংসা করতে এসআই আলতাফ সেখানে গেলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে আশপাশে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করা হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় প্রধান আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারের বরদেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় একটি গেঞ্জি তৈরির কারখানার সামনে প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে গিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় রোববার ভোরে প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
সানা/ডিসি/আপ্র/৬/৯/২০২৬